সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার রনসী গ্রামের রাজা হোসেন জীবনের সব সঞ্চয় ও স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন ইউরোপের গ্রিসে। আট ভাই-বোনের মধ্যে তৃতীয় এবং চার ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রাজা ছিলেন পরিবারের প্রধান ভরসা। বাবা আবদুল জলিল ছিলেন একসময় ওমান প্রবাসী। পরে দেশে ফিরে জমি বর্গাচাষ করে কোনো মতে সংসার চালিয়ে নিচ্ছেন। ছেলের ভবিষ্যতের আশায় প্রায় ২০ লাখ টাকা ঋণ করে গ্রিসে পাঠান তাকে।
প্রথমে ওমান হয়ে ইরান ও তুরস্ক হয়ে গ্রিসে পৌঁছান রাজা। একবার মাফিয়াদের হাতে বন্দিও হন, সেখান থেকে ছাড়াতে সাড়ে ১২ লাখ টাকার বেশি খরচ হয় পরিবারের। এসব সহ্য করেও রাজা স্বপ্ন দেখতেন—ঋণমুক্ত করে বাবাকে একটি দালান ঘর উপহার দেবেন, ভাই-বোনদের লেখাপড়ার খরচ চালাবেন। কিন্তু সব স্বপ্ন ভেঙে যায় ২৫ জুলাই। অভিযোগ অনুযায়ী, সঙ্গী বাংলাদেশি কর্মীদের আঘাতে নির্মমভাবে নিহত হন রাজা হোসেন। পরিবারের দাবি, গ্রিসের সলফ গ্রামের কয়েকজন প্রবাসীর সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহতের পরিবার জানায়, রাজা একটি নির্মাণ প্রকল্পে ফোরম্যান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন, যা সহকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে। ঘটনার দিন রাজা একজন আত্মীয়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলছিলেন, তখন পেছন থেকে তাকে আঘাত করে রফিক, সেজুল, রেজাউল, জামাল ও রাহুল নামের পাঁচ বাংলাদেশি। ভিডিও কলে থাকা আত্মীয় পুরো ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন। তিন দিন পর একটি পরিত্যক্ত স্থানে টিনের নিচে রাজার মরদেহ উদ্ধার হয়।
আরও
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবরে রনসী গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের মা নিবারুন নেছা ও বাবা আবদুল জলিল ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরত আনার দাবি জানান। তারা হত্যাকারীদের ফাঁসি চান এবং সরকারের কাছে সহায়তার আবেদন জানান। গ্রামবাসী, জনপ্রতিনিধি ও সমাজকর্মীরাও দ্রুত বিচার ও লাশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে শান্তিগঞ্জ থানার ওসি আকরাম আলী জানান, যেহেতু ঘটনাটি গ্রিসে ঘটেছে, মামলা সেখানেই হতে হবে। তবে নিহতের পরিবার চাইলে সবধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। স্থানীয় ইউপি সদস্য ও সমাজকর্মীরা এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত ও শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন।











