কুয়েতের নবনির্মিত আল-মুতলা শহরে একটি নির্মাণাধীন ভবনে নতুন এক নিরাপত্তারক্ষীকে (সিকিউরিটি গার্ড) নির্মমভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। শনিবার (৩১ অক্টোবর) স্থানীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম টাইমস কুয়েত এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে এই হত্যাকাণ্ডের খবরটি প্রকাশ্যে আনে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে ওই নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে নিহত ওই নিরাপত্তারক্ষীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপরই কুয়েতের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পাবলিক সিকিউরিটি সেক্টরের যৌথ দল অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ব্যাপক অভিযান শুরু করে। হত্যার খবর পাওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের শ্বাসরুদ্ধকর এক অভিযানের পর এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় কুয়েত পুলিশ। তবে আইনি প্রক্রিয়ার কারণে গ্রেপ্তারকৃত ওই বাংলাদেশির নাম বা বিস্তারিত পরিচয় এখনো প্রকাশ করেনি প্রশাসন।
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে সিআইডির চৌকস সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ফরেনসিক আলামত সংগ্রহ শুরু করেন। তাদের প্রাথমিক তদন্তে এক বিস্ময়কর তথ্য বেরিয়ে আসে। পুলিশ তদন্ত করে জানতে পারে, অভিযুক্ত ওই বাংলাদেশি ব্যক্তি নিজেই ওই নির্মাণাধীন ভবনের সাবেক নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু মরদেহ উদ্ধারের মাত্র এক দিন আগে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল এবং তার জায়গায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল ওই নতুন নিরাপত্তারক্ষীকে। নিজের চাকরি হারানোর তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা থেকেই তিনি এই ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয় পুলিশ। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয়টি হলো, হত্যাকাণ্ডের পর ধরা পড়ার ভয়ে ওই ঘাতক অত্যন্ত সুকৌশলী এক চতুর পথ অবলম্বন করেছিলেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিজের রেসিডেন্সি বা ইকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় জারি হওয়া এক পুরোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সুযোগ নিয়েছিলেন অভিযুক্ত ওই বাংলাদেশি। হত্যাকাণ্ডে তার নাম জড়ানোর আগেই দ্রুত দেশত্যাগ করে বাংলাদেশে নিরাপদে পালিয়ে যাওয়ার হীন উদ্দেশ্যে তিনি স্বেচ্ছায় কুয়েতের শার্ক পুলিশ স্টেশনে গিয়ে অবৈধ ভিসার কথা বলে নিজেই আত্মসমর্পণ করেছিলেন। মূলত পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে ডিপোর্টেশনের মাধ্যমে দেশে ফেরার এই সুনিপুণ কৌশল কাজে লাগিয়ে তিনি খুনের দায় থেকে চিরতরে বাঁচতে চেয়েছিলেন। তবে সিআইডির কঠিন জেরার মুখে তার সেই ধুরন্ধর চালাকি টেকেনি। টানা জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি ভেঙে পড়েন এবং নিজেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা অকপটে স্বীকার করেন। তিনি পুলিশকে জানান, নিজের স্থলাভিষিক্ত হওয়া নতুন নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গে তার ভয়াবহ বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি কাঠের একটি ভারী বস্তু ও ধারালো ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি হামলা চালিয়ে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেন।










