কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের চালানো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক ভারতীয় নাগরিক নিহত এবং অন্তত ৬০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এই আহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে কুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। আজ বুধবার এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দূতাবাসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
দূতাবাসের দেওয়া ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান আঞ্চলিক সংকটের জেরে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত চার বাংলাদেশিকে ইতিমধ্যে স্থানীয় ফারওয়ানিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসাধীন ওই নাগরিকদের শারীরিক অবস্থার প্রতিনিয়ত খোঁজখবর রাখছে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
আরও
বর্তমান যুদ্ধাবস্থা ও জরুরি পরিস্থিতিতে কুয়েত সরকারের কঠোর নির্দেশনার কথাও দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, এ ধরনের স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থল, বিশেষ করে রকেট বা ড্রোন হামলা এবং সেগুলো প্রতিহত করার কোনো ছবি তোলা কিংবা ভিডিও ধারণ করা কুয়েতের আইন অনুযায়ী চরম দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই কুয়েতের স্থানীয় আইনের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থেকে সরকারের সব ধরনের দিকনির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হামলার ছবি বা ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি কঠোরভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, হামলায় বিপুলসংখ্যক মানুষ আহত হওয়ায় কুয়েতের কেন্দ্রীয় ব্লাড ব্যাংকে সংরক্ষিত রক্ত সরবরাহে আকস্মিক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিষয়টি বাংলাদেশ দূতাবাসের নজরে আসার পর জরুরি ভিত্তিতে রক্তদানের মানবিক আহ্বান জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে রক্তদানে সক্ষম কুয়েতপ্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের দ্রুত কেন্দ্রীয় ব্লাড ব্যাংকে গিয়ে রক্ত দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। পাশাপাশি এই মানবিক সংকটে অন্য প্রবাসীদেরও উৎসাহিত করার জন্য দূতাবাসের পক্ষ থেকে বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে।










