বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে অর্থ পাচার করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘গোল্ডেন ভিসা’ সুবিধার আওতায় দুবাইয়ে বিপুল সম্পদ গড়েছেন ৪৫৯ জন বাংলাদেশি। তাঁদের কেনা ৯৭২টি সম্পদের বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে ৭০ জনকে শনাক্ত করে একটি তালিকা তৈরি করেছে অনুসন্ধান দল। এসব ব্যক্তির কর নথি, ব্যাংকিং লেনদেন ও বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের বিভিন্ন নথিপত্র বর্তমানে নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
দুদক ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে শুধু দেশের ভেতরে বসে নথিপত্র যাচাই করে এই অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা নিশ্চিত করা কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাই প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন, সম্পত্তির মালিকানা, বেনিফিশিয়াল ওনার ও লেনদেনের উৎস যাচাইয়ের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষের সহায়তায় দুবাইয়ে সরাসরি সরেজমিন অনুসন্ধানের পরিকল্পনা রয়েছে দুদকের। ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন ওই ৭০ জনের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে এনবিআরের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি দুদকের হাতে এসে পৌঁছেছে।
আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজ’ এবং ‘ইইউ ট্যাক্স অবজারভেটরি’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল পর্যন্ত দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের কেনা ওই ৯৭২টি প্রপার্টির কাগজে-কলমে মূল্য প্রায় ৩১ কোটি ৩০ লাখ ডলার। অভিযোগ রয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের সম্পদ কেনার এই প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও সেখানে বিদেশি প্রপার্টি ক্রেতাদের তালিকায় নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড বা জার্মানির মতো দেশগুলোকে পেছনে ফেলেছেন বাংলাদেশিরা। ২০২৩ সালের শুরুতে সুপ্রিম কোর্ট থেকেও দুবাইয়ে সম্পদ কেনা বাংলাদেশিদের বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে এই পাচার হওয়া বিপুল অর্থের উৎস এবং এর প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করতে আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে দুদক।











