সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে ইরানের আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার (১৬ মার্চ) সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, আবুধাবির আল বাহিয়া এলাকায় একটি বেসামরিক গাড়ির ওপর সরাসরি ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানলে ঘটনাস্থলেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। হামলার খবর পাওয়ার পরপরই জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করে।
এদিকে একই দিনে আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরে একটি ড্রোন হামলার পর সেখানে তেল লোডিং বা ওঠানোর কার্যক্রম সাময়িকভাবে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যের বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্রোন হামলার কারণে ফুজাইরাহর পেট্রোলিয়াম শিল্পাঞ্চলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। ফুজাইরাহ সরকারের গণমাধ্যম দপ্তর জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। তবে এই ড্রোন হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ওমান সাগরের তীরে এবং হরমুজ প্রণালির ঠিক বাইরে অবস্থিত ফুজাইরাহ বন্দরটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দর থেকে প্রতিদিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল মুরবান ক্রুড বা অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করা হয়ে থাকে। হামলার কারণে এই রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও
চলমান এই যুদ্ধ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য’ ছড়ানোর অভিযোগে এক বাংলাদেশিসহ ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। গতকাল রোববার (১৫ মার্চ) আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল ড. হামাদ সাইফ আল শামসির নির্দেশে রাজধানী আবুধাবিসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধসংক্রান্ত ভুয়া ফুটেজ ছড়ানোর সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলায় তাঁদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা হবে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশি ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের নাগরিক রয়েছেন।











