‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র আওতায় সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তার উপায় খুঁজতে দেশটির পাশাপাশি পাকিস্তান ও তুরস্কের সেনাপ্রধানদের একটি জরুরি বৈঠকের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেছেন তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। শুক্রবার সৌদি গেজেটের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। চুক্তির অন্যতম মূল শর্ত অনুযায়ী, চুক্তিবদ্ধ যেকোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে তা বাকি সব দেশের ওপর সরাসরি হামলা বলেই গণ্য হবে।

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে সৌদি আরবের স্থায়ী মিশনের সদর দপ্তরে এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সৌদি আরবকে কীভাবে সামরিক ও কৌশলগত সহায়তা দেওয়া যায়, তা নির্ধারণ করতে তিন দেশের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানদের (চিফস অব স্টাফ) আসন্ন বৈঠকের সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেন তাঁরা।
আরও
তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে পবিত্র মক্কা নগরী এবং সৌদি আরবের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানান তিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখা, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিতে অটল থাকার ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।
এ ছাড়া বৈঠকে সমুদ্রপথে নিরাপদ নৌচলাচল ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান উত্তেজনা প্রশমন ও যেকোনো সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের মাধ্যমে অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই শান্তি-স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একযোগে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।









