যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত একটি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই ইয়েমেনের হুতি নিয়ন্ত্রিত হোদেইদা বন্দরনগরীতে হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। গত শুক্রবার গভীর রাতের এই হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইয়েমেনের হুতি সরকার। শনিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, হুতি সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হোদেইদাকে লক্ষ্যবস্তু করার মাধ্যমে রিয়াদ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, যার মারাত্মক পরিণতি তাদের ভোগ করতে হবে।
হুতি-সমর্থিত সংবাদমাধ্যম ‘আল মাসিরাহ’ জানিয়েছে, সৌদি বিমান হামলায় মূলত টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষের স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং কামারান দ্বীপে হামলায় এক নারী আহত হয়েছেন। রয়টার্স হোদেইদা বন্দরে বিকট বিস্ফোরণের খবর দিলেও, সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সেখানে সরাসরি আঘাত হানার কথা অস্বীকার করেছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হুতিদের সাম্প্রতিক তৎপরতাকে ‘কাপুরুষোচিত ও বেপরোয়া’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এমন শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে প্রয়োজনীয় সব সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
হোদেইদা বন্দরনগরী ইয়েমেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি লাইফলাইন, যা দিয়ে অবরুদ্ধ অঞ্চলটির অধিকাংশ বাণিজ্যিক পণ্য ও মানবিক সহায়তা প্রবেশ করে। উল্লেখ্য, নৌ-অবরোধ লঙ্ঘনের অভিযোগে গত বুধবার লোহিত সাগরে কয়েকটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল হুতিরা। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, গত ১৩ জুলাই সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার মধ্য দিয়েই মূলত ২০২২ সাল থেকে চলে আসা দুই পক্ষের অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি বা উত্তেজনা প্রশমন পর্বের অবসান ঘটেছে।








