ইসরাইলি সেনারা শুক্রবার থেকে গাজা সিটিতে নতুন করে তীব্র হামলার প্রস্তুতিমূলক অভিযান শুরু করেছে। সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জনবহুল এই নগরীকে “বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্র” ঘোষণা করেছে। এর ফলে পূর্বঘোষিত মানবিক বিরতি আর কার্যকর থাকছে না।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আভিখাই আদরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে গাজা সিটিতে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। তাঁর দাবি, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হলেও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল থেকেই শহরের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ শুরু হয়। আল-কারামা, আল-সাফতাওয়ি, আবু ইস্কান্দার, আল-জাল্লা সড়ক এবং ইন্টেলিজেন্স টাওয়ার এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটতে দেখা গেছে। আবাসিক এলাকায় কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়।
আরও
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) সতর্ক করে বলেছে, গাজা সিটিতে সামরিক অভিযান আরও তীব্র হলে প্রায় ১০ লাখ মানুষ আবারও বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। সংস্থার মতে, অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ ইতোমধ্যেই নিশ্চিত হয়েছে এবং নতুন হামলা মানবিক বিপর্যয়কে ভয়াবহ আকারে বাড়িয়ে তুলবে।
জাতিসংঘ জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৩ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। পুরো গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্তের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। পাশাপাশি গণহত্যার অভিযোগে ইসরাইল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) বিচারের মুখোমুখি হচ্ছে।












