ইসরায়েল রাষ্ট্রের আগ্রাসী নীতি ও দখলদার মনোভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্বব্যবস্থাকে অস্থির করে তুলেছে। পশ্চিমা বিশ্বের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও কিছু ইউরোপীয় রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতায় ইসরায়েল বারবার আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের সীমা লঙ্ঘন করেছে। ১৯৪৮ সালে ব্রিটেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ফিলিস্তিনি জনগণের উচ্ছেদ শুরু হয়, যার ভয়াবহ রূপ দেখা গেছে ১৯৪৮ ও ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে। প্রথম আরব-ইসরায়েল যুদ্ধেই প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থী হন এবং এই বেদনার ইতিহাস এখনও অব্যাহত।
ফিলিস্তিন সংকটে আরব বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্ব সংগঠিত হতে পারেনি। ওআইসি-এর মত সংগঠন প্রতীকী প্রতিবাদ ছাড়া কার্যত কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। বিভিন্ন সময় হামাস ও পিএলও-এর নেতৃত্বে ফিলিস্তিনিরা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও তা দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে রূপ নেয়নি। পশ্চিমা দেশগুলোর একচোখা নীতির কারণে জাতিসংঘে আনা বেশ কিছু নিন্দা প্রস্তাবও যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর কারণে পাশ হয়নি। আন্তর্জাতিক চাপ থাকলেও ইসরায়েলের দখলদারিত্ব অব্যাহত রয়েছে, আর দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান আজ বাস্তবতার চেয়ে অনেক দূরের কল্পনা।
আরও
গাজা যুদ্ধ ও চলমান সহিংসতা
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার জবাবে ইসরায়েল যে ভয়াবহ পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে, তা নজিরবিহীন মাত্রায় প্রাণহানি ঘটিয়েছে। নারী-শিশুদের ওপর নির্বিচারে বোমাবর্ষণ, খাদ্য ও ওষুধের ওপর অবরোধ এবং ত্রাণকার্যক্রমে বাধা দেওয়ার ফলে গাজা মানবিক বিপর্যয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। হাজার হাজার শিশু এতিম হয়ে পড়েছে, আর জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই পরিস্থিতিতে কার্যত অসহায়।
আঞ্চলিক যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা সিরিয়া, লেবানন, ইয়েমেন ও ইরান পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ এবং পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। যদিও কিছু ইউরোপীয় রাষ্ট্র ইসরায়েলের আগ্রাসনের সমালোচনা করেছে, তবুও যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ সমর্থন ইসরায়েলের নীতিকে আরো আগ্রাসী করে তুলেছে।
ইসরায়েলের আগ্রাসন রুখতে হলে প্রয়োজন আন্তর্জাতিক চাপ, আরব বিশ্বের ঐক্য এবং জাতিসংঘের কার্যকর উদ্যোগ। নইলে ইসরায়েল শুধু ফিলিস্তিন নয়, পুরো অঞ্চলকেই ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে। মালয়েশিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের ভাষায়, “ইসরায়েলের এই নৃশংসতাকে যেভাবে পশ্চিমা সভ্যতা নীরবে মেনে নিচ্ছে, তা বিশ্ব বিবেকের নৈতিক পতনের ইঙ্গিত দেয়।”










