হামাস সম্প্রতি দুই ইসরায়েলি জিম্মির ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে গাজার দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির করুণ চিত্র উঠে এসেছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন খাদ্য ও পানির সংকটে জিম্মিরা এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছেন যে, তাদের পক্ষে স্বাভাবিকভাবে হাঁটা বা দাঁড়ানোও সম্ভব হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার ভিডিও প্রকাশের পর এটি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
যদিও গাজায় দুর্ভিক্ষে ইতিমধ্যে অন্তত ১৭৫ জনের মৃত্যুর খবর রয়েছে, তবুও এই মানবিক সংকট এতদিন উপেক্ষিত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু দুই ইসরায়েলি নাগরিকের দুরবস্থার ভিডিও সামনে আসতেই যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সসহ পশ্চিমা দেশগুলোর নেতারা হঠাৎ করেই জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করেছেন।
বিবিসি জানায়, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি এই ভিডিওকে ‘বীভৎস’ উল্লেখ করে বলেন, এটি একটি প্ররোচনামূলক প্রচারণা। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক ম্যার্ৎস যুদ্ধবিরতির পূর্বশর্ত হিসেবে জিম্মিদের মুক্তির ওপর জোর দেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেন, জিম্মিদের মুক্তি এবং গাজায় অবাধ ত্রাণ প্রবাহ নিশ্চিত করতে ফ্রান্স নিরলসভাবে কাজ করছে।
আরও
প্রকাশিত ভিডিওতে এক জিম্মি বলেন, সারাদিনে তিনি মাত্র তিনটি ফালাফেল খেতে পেরেছেন এবং এখন আর শক্তিও অবশিষ্ট নেই। অপর এক জিম্মিকে দেখা গেছে নিজের কবর খুঁড়তে, যিনি জানান, কয়েকদিন ধরে তিনি না খেয়ে রয়েছেন এবং পানি পাওয়াও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ভিডিওগুলো প্রকাশের পর ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জিম্মিদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের আশ্বস্ত করেছেন, উদ্ধারের প্রচেষ্টা জোরদার করা হচ্ছে। তিনি রেড ক্রসকে অনুরোধ করেছেন, যেন দ্রুত জিম্মিদের কাছে খাবার ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হয়। রেড ক্রস হামাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং জানিয়েছে, ভিডিওগুলো দেখে তারা গভীরভাবে মর্মাহত।
হামাসের সামরিক শাখা কাসেম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু ওবেইদা দাবি করেন, জিম্মিদের বিশেষ কোনো সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না, তারা গাজার সাধারণ মানুষের মতোই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তিনি বলেন, যদি জিম্মিদের ত্রাণ দিতে হয়, তবে তা গাজার সব মানুষের জন্য হতে হবে এবং মানবিক করিডোর নিরাপদ রাখতে হবে।
এদিকে জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গাজায় শিশুসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে এবং এটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটগুলোর একটি। পশ্চিমা মিত্ররা এ সংকটের জন্য ইসরায়েলি অবরোধকে দায়ী করলেও, ইসরায়েলের দাবি—এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী মূলত হামাস।










