লোহিত সাগরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় গ্রিস-পরিচালিত লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ‘ইটার্নিটি সি’ ডুবে গেছে। হামলায় কমপক্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন নাবিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌ মিশন “অপারেশন অ্যাসপাইডস”। ইতোমধ্যে ছয়জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানায়, সোমবার ২৫ জন ক্রুসহ জাহাজটি হামলার শিকার হয়। একটি ছোট নৌযান থেকে ছোড়া রকেটচালিত গ্রেনেডে জাহাজটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হুতি মুখপাত্র দাবি করেন, জাহাজটি ইসরায়েলের দিকে যাচ্ছিল বলেই তারা হামলা চালিয়েছে এবং কয়েকজন ক্রুকে “নিরাপদ স্থানে” নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আক্রান্ত জাহাজের ক্রুদের মধ্যে ২১ জনই ফিলিপাইনের নাগরিক। এছাড়া রয়েছেন এক রাশিয়ান, যিনি গুরুতর আহত হয়ে একটি পা হারিয়েছেন। অভিযানের সময় জীবিত উদ্ধারকৃতদের মধ্যে কেউ কেউ ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় সাগরে ভেসে ছিলেন বলে জানিয়েছে একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা।
আরও
এই হামলার কয়েকদিন আগে ‘ম্যাজিক সিস’ নামের আরেকটি পণ্যবাহী জাহাজেও হামলা চালিয়েছিল হুতিরা, যা পরে ডুবে যায়। গত নভেম্বর থেকে হুতিরা লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে অন্তত ৭০টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে চারটি জাহাজ ডুবেছে, পাঁচটি দখলে নেওয়া হয়েছে এবং সাতজন নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন।
হুতিদের এসব হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইয়েমেনে পাল্টা বিমান হামলা চালিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, হুতিদের হামলা আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থা (আইএমও) সাম্প্রতিক হামলাকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করে তা বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।











