গাজা ভূখণ্ডের পুরো নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। সোমবার প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানান, সামরিক অভিযানের গতি বাড়িয়ে ইসরায়েল উপত্যকার প্রতিটি ইঞ্চি দখলে নেবে। একই দিনে, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে প্রায় দুই মাস পর সীমিত পরিসরে গাজায় ত্রাণ ঢুকতে শুরু করে।
গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েল গাজায় ত্রাণ প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করেছিল, এ অবরোধে উপত্যকার প্রায় ২০ লাখ মানুষ অনাহারের ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিস্থিতির তীব্রতা বাড়তে থাকায় ইসরায়েল অবশেষে সীমিত সংখ্যক ত্রাণবাহী ট্রাক ঢোকার অনুমতি দেয়।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার জানান, সোমবার মাত্র ৯টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের অনুমতি পায়, তবে প্রয়োজনের তুলনায় এই সাহায্য সামান্য। তিনি বলেন, এই ত্রাণ ‘সমুদ্রে এক ফোঁটা পানির মতো।’ রাত হয়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সে দিন বিতরণ কার্যক্রম চালানো যায়নি বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মুখপাত্র।
আরও
একই দিনে ইসরায়েল গাজা জুড়ে ১৬০টি স্থানে বিমান হামলা চালায় বলে জানায় দেশটির সেনাবাহিনী। গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার তথ্যমতে, এই হামলায় কমপক্ষে ৯১ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। খান ইউনিসের আশপাশের এলাকাগুলো থেকে বেসামরিকদের সরে যেতে বলা হয়েছে, যেটিকে ইসরায়েল ‘নজিরবিহীন হামলার’ পূর্ব সতর্কতা হিসেবে ব্যাখ্যা করছে।
নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘গাজায় তীব্র লড়াই চলছে এবং আমরা অগ্রসর হচ্ছি। আমরা উপত্যকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করব।’ তিনি আরও মন্তব্য করেন, ক্ষুধার্ত শিশুদের ছবি ইসরায়েলের অভিযানের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে, কিন্তু ইসরায়েল পিছু হটবে না।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর ইসরায়েলের এসব হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং জাতিগত নিধনের সঙ্গে তুলনা করেছে। গাজার পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে, এবং মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানাচ্ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা।









