বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে একমত হয়েছে উভয় দেশ। আজ বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর শ্রমবাজার ইস্যুতে এটিই প্রথম কোনো উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় সফর। এই বৈঠকে অংশ নিতে গত বুধবার প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন মালয়েশিয়ায় যান। বৈঠককালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দীর্ঘদিনের সংগ্রামের প্রশংসা করার পাশাপাশি সুবিধাজনক সময়ে তাঁকে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান।

আরও
বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে অতীতে ঘটে যাওয়া শ্রমিক শোষণ রোধে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং দক্ষ নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। নতুন এই প্রক্রিয়ায় সিন্ডিকেটের প্রভাব ভেঙে প্রকৃত কর্মীরা যেন কম খরচে মালয়েশিয়ায় যেতে পারেন, সে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এই শ্রমবাজার পুনরায় সচল করতে এবং নিয়োগপ্রক্রিয়াকে আধুনিকায়ন করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে। দুই দেশ একমত হয়েছে যে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে।


সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার নির্দেশিকা অনুযায়ী নিয়োগকর্তাই সম্পূর্ণ খরচ বহন করবেন, এমন নীতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মূলত কর্মীর অভিবাসন খরচ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া মালয়েশিয়া সরকার একটি প্রযুক্তিনির্ভর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে, যা মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের দৌরাত্ম্য কমিয়ে সরাসরি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। বাংলাদেশ সরকার এই আধুনিক উদ্যোগকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। পাশাপাশি যেসব কর্মী আগে ভিসা পেয়েও নানা জটিলতায় মালয়েশিয়ায় যেতে পারেননি, তাঁদের যাওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজ করার বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
শ্রমবাজার চালুর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও এই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর বাইরে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়েও কথা বলেছেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।








![]](https://probashtime.net/wp-content/uploads/2026/04/unnamed-file-1.webp)
