সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) দক্ষ ও প্রতিভাবান মানুষ আকৃষ্ট করতে এবং দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে ভিসা নীতিতে বড় ধরনের সম্প্রসারণ করেছে। দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ৯.০৬ মিলিয়ন প্রবাসী বসবাস করছেন। নতুন নন-ওয়ার্ক ভিসার মাধ্যমে কাজ ছাড়াই সেখানে বসবাসের সুযোগ মিলবে, পাশাপাশি অবসর জীবনও নিরাপদ ও আরামদায়ক হবে।
ইউএই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মোট ছয় ধরনের নন-ওয়ার্ক ভিসা চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রিমোট ওয়ার্ক ভিসা, যা বিদেশে থাকা নিয়োগকর্তার হয়ে দূর থেকে কাজ করার সুযোগ দেবে। এক বছরের জন্য প্রযোজ্য এই ভিসার জন্য চাকরির প্রমাণপত্র, মাসিক অন্তত ৩,৫০০ ডলার আয় এবং ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দিতে হবে।
রিটায়ারমেন্ট ভিসা পাঁচ বছরের জন্য প্রাপ্তিযোগ্য। এটি পেতে হলে আবেদনকারীর বয়স হতে হবে কমপক্ষে ৫৫ বছর এবং ইউএই বা বিদেশে অন্তত ১৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বিকল্পভাবে, ১ মিলিয়ন দিরহামের জমি/সঞ্চয় অথবা মাসিক ২০,০০০ দিরহাম আয়ের প্রমাণ থাকলেও এই ভিসা পাওয়া যাবে। এছাড়া স্টুডেন্ট ভিসা বিশেষ কৃতিত্বপূর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য, যা সাধারণত পাঁচ বছরের জন্য দেওয়া হয়। বিশেষ প্রতিভা থাকলে মেয়াদ ১০ বছর পর্যন্ত হতে পারে।
আরও
চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য রয়েছে জবসিকার ভিসা, যা কোনো স্পনসর ছাড়াই পাওয়া যায় এবং ৬০, ৯০ বা ১২০ দিনের জন্য বৈধ। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীর উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা এবং আর্থিক যোগ্যতা থাকতে হবে। অন্যদিকে গ্রিন ভিসা পাঁচ বছরের জন্য স্ব-স্পনসরযোগ্য, যা উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবী, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য। এতে সন্তান ও কন্যাকে স্পনসর করা যায় এবং মেয়াদ শেষে ছয় মাস পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড থাকে।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো গোল্ডেন ভিসা, যা ১০ বছরের জন্য দেওয়া হয়। বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, চিকিৎসা, আইটি, মিডিয়া খাতের বিশেষজ্ঞ, বিজ্ঞানী, ফ্রন্টলাইন কর্মী ও করোনা হিরোসহ অসাধারণ শিক্ষার্থীরা এই ভিসার আওতায় পড়েন। এর মাধ্যমে পরিবারকেও স্পনসর করার সুযোগ রয়েছে। ইউএই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সব ধরনের নন-ওয়ার্ক ভিসা প্রয়োজনে নবায়নযোগ্য।












