ইউক্রেনের সুমি শহরে অবস্থিত ভারতীয় ‘কুসুম গ্রুপ’-এর একটি বিশাল ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। রোববার (৪ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই হামলায় কারখানার মূল কাঠামো প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে অন্তত একজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও হতাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চরম বৈরী পরিস্থিতির মধ্যেও সুমির এই কারখানাটি তাদের উৎপাদন সচল রেখেছিল। তবে রোববারের এই হামলায় কারখানাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ৪০০ কোটি রুপির আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে সুমির একটি সাধারণ ওষুধ গুদামে এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি কিয়েভের পিভনিচনি ব্রিজে ড্রোন হামলা এবং দিনিপ্রোতে একটি যোগাযোগ স্থাপনায় রুশ হামলায় ছয়জন আহত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত গ্রীষ্মকাল থেকেই মস্কো প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দ্রুতগতির ও তুলনামূলক সস্তা ‘শাহেদ’ ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে। এসব ড্রোনের গতি অত্যন্ত বেশি হওয়ায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও ইন্টারসেপ্টরগুলোর জন্য এগুলো প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আরও
ভারতীয় নাগরিক রাজীব গুপ্ত পরিচালিত কুসুম গ্রুপ ১৯৯৪ সালে ইউক্রেনে ওষুধ রপ্তানিকারক ও পরিবেশক হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে তারা সুমিতে নিজেদের এই কারখানাটি স্থাপন করে। নিজেদের ‘ভারতীয় শিকড়যুক্ত ইউক্রেনীয় কোম্পানি’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ৫০টিরও বেশি জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন করে এবং ইউক্রেন, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান ও ফিলিপাইনসহ অন্তত নয়টি দেশে তা বাজারজাত করে থাকে।









