আন্তর্জাতিক নৌপথ বিশেষ করে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বড় পরিসরে সমন্বিত সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, পশ্চিমা কূটনীতিক ও আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানিয়েছে যে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই অভিযান শুরু হতে পারে। হুথিদের সাম্প্রতিক আগ্রাসন রুখে দিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘বাব এল-মান্দেব’ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করাই রিয়াদের প্রধান লক্ষ্য। রণকৌশল হিসেবে সৌদি আরব বর্তমানে দুটি বিকল্প বিবেচনা করছে—হয় শুধু প্রণালি ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলে সীমিত পরিসরে আক্রমণ চালানো, নয়তো ইয়েমেনের আল-বায়দা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফ গভর্নরেটে একাধিক ফ্রন্টে একযোগে বহুমুখী মাত্রায় হামলা পরিচালনা করা।
পরিকল্পিত এই সামরিক অভিযানে ইয়েমেনের লক্ষাধিক সরকারি সেনাসদস্য মূলত স্থলযুদ্ধের নেতৃত্ব দেবেন এবং সৌদি বিমানবাহিনী আকাশপথে বোমাবর্ষণ করে তাদের নিবিড় সহায়তা দেবে। এই অভিযানে সৌদির কোনো মিত্র দেশ সরাসরি সম্মুখযুদ্ধে অংশ না নিলেও গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা ও লজিস্টিক সহায়তা দিয়ে পাশে থাকছে। যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি লড়াইয়ে না জড়ালেও লক্ষ্যবস্তু শনাক্তে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় তুরস্ক ও পাকিস্তান রিয়াদকে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও ড্রোন সরবরাহ করছে। এরই মধ্যে ইয়েমেনের অন্তর্বর্তী রাজধানী এডেনে অস্ত্রশস্ত্র ও সামরিক উপদেষ্টা পাঠিয়েছে ইসলামাবাদ। পাশাপাশি, সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলা থেকে সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ তেল স্থাপনা ও সীমান্ত সুরক্ষায় বিপুলসংখ্যক পাকিস্তানি সেনা এবং ফরাসি সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক অস্থিরতায় হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্ববাণিজ্যের জন্য লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব নৌপথের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব এখন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদের এবারের অভিযানটি ২০১৫ সালের সর্বাত্মক গৃহযুদ্ধের মতো বিস্তৃত না হয়ে বরং নৌচলাচলের পূর্বের স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যেই পরিচালিত হবে। তবে এই ব্যাপক আয়োজনের সফলতার পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে স্থলভাগে লড়াই করতে যাওয়া ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। হুথিদের মতো একটি সুসংগঠিত গোষ্ঠীকে পরাস্ত করতে সৌদি ও আমিরাত-সমর্থিত ইয়েমেনি উপদলগুলোর মধ্যে যে মাত্রার ঐক্য, সংহতি ও সামরিক দক্ষতা প্রয়োজন, তার অভাব পুরো অভিযানের ফলাফলকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।










