ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির হামলা যদি সৌদি আরবের অভ্যন্তরে আরও ছড়িয়ে পড়ে, তবে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যকার ত্রিপক্ষীয় ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ কার্যকর করা হতে পারে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের একটি তেল স্থাপনায় হুতির হামলায় ৭৩ জন আহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এমন কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করে যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
মঙ্গলবার রাতে পাকিস্তানের জিও নিউজের এক সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কৌশলগত এই চুক্তি কার্যকরের বিষয়ে কোনো ধরনের অস্পষ্টতা নেই। চুক্তি অনুযায়ী, কোনো উসকানি ছাড়াই যদি আগ্রাসন চালানো হয় কিংবা ইয়েমেনের বর্তমান সংঘাতের আঁচ সৌদি আরবে লাগে, তবে পাকিস্তান এর কড়া জবাব দিতে বাধ্য থাকবে। সদস্যরাষ্ট্রগুলোর যৌথ সুরক্ষাই এই চুক্তির প্রধান উদ্দেশ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে তিনটি দেশই সমানভাবে তার জবাব দেবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি একটি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক জোট, আগ্রাসী কোনো চুক্তি নয়।
হুতিদের একটি ‘অরাষ্ট্রীয় শক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সতর্ক করেন, গোষ্ঠীটি নিজেদের অভ্যন্তরীণ সংঘাত অন্য দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে এই চুক্তির ধারাগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে। মুসলিম বিশ্বে ইরানের প্রতি সহানুভূতির বিষয়টি স্বীকার করলেও তিনি মনে করেন, অরাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে দ্বিপক্ষীয় বিরোধ উসকে দেওয়া চরম ঝুঁকিপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। ২০১৪ সাল থেকে চলমান ইয়েমেন সংঘাতের কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং দেশটির পবিত্রভূমির কারণে যেকোনো কঠিন সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো পাকিস্তানের অবশ্য কর্তব্য।









