বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি নাগরিকদের ওপর হামলার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশে ভ্রমণে চরম সতর্কতা জারি করেছে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এনএসসি)। রোববার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আসন্ন ইহুদি ধর্মীয় উৎসব এবং আগামী অক্টোবরে ইসরায়েলে চালানো হামাসের আকস্মিক হামলার তৃতীয় বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে এই নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নাগরিকদের বেশ কিছু দেশে অবস্থান না করার এবং নতুন করে ভ্রমণে বিরত থাকার কড়া নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি।
নিরাপত্তা পরিষদের সর্বশেষ ঝুঁকি মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান তীব্র উত্তেজনার কারণে এই মুহূর্তে বিশ্বব্যাপী ইসরায়েলিদের ওপর হামলার শঙ্কা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বড় ধরনের ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভের আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা যেকোনো সময় সহিংস রূপ নিতে পারে। ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের দাবি, হামাস ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা আফ্রিকা মহাদেশে ইসরায়েলিদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
ভ্রমণ সতর্কতায় মধ্যপ্রাচ্য ও ইরানের সীমান্তবর্তী দেশগুলোকে ইসরায়েলিদের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে আজারবাইজান, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলার সর্বোচ্চ ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি জর্ডান, কাতার, মিসর (সিনাই উপত্যকাসহ) এবং সোমালিল্যান্ডে অবস্থানরত ইসরায়েলিদের দ্রুত সেসব স্থান ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি এসব দেশের বিমানবন্দরে ফ্লাইটের ট্রানজিট নেওয়া থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, ইয়েমেন, ইরান ও সৌদি আরবে ইসরায়েলি এবং দ্বৈত নাগরিকদের প্রবেশ আইনগতভাবেই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ইসরায়েল।
আরও
এই সতর্কবার্তায় সম্পূর্ণ উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রাখা হয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, লিবিয়া, আলজেরিয়া ও সোমালিয়াকে। এসব দেশে ইসরায়েলি নাগরিকদের কোনোভাবেই ভ্রমণ না করার পরমর্শ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক বা বাণিজ্যিক সম্পর্ক নেই এবং ইসরায়েলি নাগরিকদের বাংলাদেশে প্রবেশের কোনো সুযোগও নেই। তা সত্ত্বেও ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের অবিচল সমর্থন এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে সম্ভাব্য জনরোষের কথা বিবেচনা করেই মূলত চরম সতর্কতামূলক এই তালিকায় বাংলাদেশের নাম যুক্ত করেছে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ।









