অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদ চত্বরে গত আগস্ট মাসে ৫ হাজার ২০৯ জন ইসরাইলি দখলদার জোরপূর্বক প্রবেশ করেছে। একই সময়ে ইসরাইলি বাহিনীর অব্যাহত আগ্রাসনে দুজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং পাঁচ শিশুসহ ১১৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরো আগস্ট মাসজুড়েই ইসরাইলি পুলিশের প্রত্যক্ষ সুরক্ষায় আল-আকসা চত্বরে ও এর গেটের আশপাশে দখলদারদের হানা এবং সেখানে ইহুদি ধর্মীয় আচার পালনের ঘটনা অব্যাহত ছিল। বিশেষ করে গত ১৩ আগস্ট একদিনেই রেকর্ডসংখ্যক ৭৫১ জন দখলদার এই পবিত্র স্থানে প্রবেশ করেন। পাশাপাশি, ফিলিস্তিনি নাগরিকদের আল-আকসায় প্রবেশে বাধা দিতে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ পাঁচটি কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

আরও
সামরিক দমনপীড়নের অংশ হিসেবে এই সময়টায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো বিভিন্ন হামলায় দুজন নিহত ও ৮৩ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ফিলিস্তিনি ও তাঁদের সম্পত্তির ওপর দখলদারদের ৪৪টি হামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। জেরুজালেমজুড়ে বাড়িঘর ও সম্পদ ধ্বংসের ৪০টি অভিযান চালানোর পাশাপাশি ৮৬টি ভাঙচুর বা কাজ বন্ধের নোটিশ জারি করেছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ।
ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য নেসেট নির্বাচনকে সামনে রেখে কট্টর ডানপন্থী দলগুলোকে সন্তুষ্ট করতেই উত্তেজনা বাড়ানোর এই অপচেষ্টা চালাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফিলিস্তিনিদের জোরালো অভিযোগ, আল-আকসা মসজিদ চত্বরসহ অধিকৃত জেরুজালেমকে ইহুদীকরণ এবং এর সুপ্রাচীন আরব ও ইসলামিক পরিচয় মুছে ফেলার জন্যই এসব চক্রান্ত চলছে। ফিলিস্তিনিরা তাদের প্রস্তাবিত স্বাধীন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব জেরুজালেমকে দাবি করে আসছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকেই জেরুজালেমসহ অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহর ও শরণার্থী শিবিরে নিয়মিত সামরিক অভিযান, নির্বিচার গ্রেপ্তার এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়ে গেছে।












