ব্যবসায়িক কাজ, দ্রুত যাতায়াত কিংবা একান্ত ব্যক্তিগত শখের বশে অনেকেই হেলিকপ্টার কেনার স্বপ্ন দেখেন। তবে একটি হেলিকপ্টার কেনা কেবল বড় অঙ্কের অর্থ খরচের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জ্বালানি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পাইলটের বেতন, বিমা ও হ্যাঙ্গারের মতো বহুমুখী ব্যয় যুক্ত থাকে। হেলিকপ্টারের দাম মূলত এর আসনসংখ্যা, ইঞ্জিনের ধরন, রেঞ্জ ও উড্ডয়ন সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে কয়েক লাখ থেকে কয়েক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের ক্ষেত্রে তুলনামূলক ছোট ও হালকা ‘রবিনসন আর২২’ মডেলটি বেশ জনপ্রিয়, যা মূলত প্রশিক্ষণ ও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহৃত হয়। এর চেয়ে বড় ‘রবিনসন আর৪৪’ সিরিজে চারজন যাত্রীর বসার সুবিধা রয়েছে। অন্যদিকে আরও শক্তিশালী টারবাইন ইঞ্জিনযুক্ত ‘আর৬৬’ সিরিজ বা ৩৩ লাখ ডলার প্রারম্ভিক মূল্যের নতুন ‘আর৮৮’ মডেলের মতো হেলিকপ্টারগুলোর দাম স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি। তাই নির্দিষ্ট কোনো দাম না ধরে মডেল ও কনফিগারেশনের ওপর ভিত্তি করেই বাজেট নির্ধারণ করতে হয়।
হেলিকপ্টারের জ্বালানি খরচ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচলিত একটি ভুল ধারণা হলো, এতে প্রতি ঘণ্টায় শত শত লিটার জ্বালানি পোড়ে। বাস্তবে এই খরচ ইঞ্জিনের ধরন, উড্ডয়নের ওজন, গতি ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে অনেকটাই আলাদা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ছোট পিস্টন ইঞ্জিনের হেলিকপ্টারগুলো বড় টারবাইন হেলিকপ্টারের চেয়ে বেশ জ্বালানি সাশ্রয়ী হয়ে থাকে। তবে জ্বালানির চেয়েও মালিকের বড় ব্যয়ের জায়গাটি হলো এর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ। নির্ধারিত সময় পরপর ইঞ্জিন, রোটর, ফ্লাইট কন্ট্রোলসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ পরীক্ষা ও পরিবর্তন করতে হয়। এর পাশাপাশি পাইলটের প্রশিক্ষণ, নিরাপদ পার্কিং বা হ্যাঙ্গার ভাড়া এবং বিমান চলাচলসংক্রান্ত প্রশাসনিক ফি মিলিয়ে হেলিকপ্টারের প্রকৃত মালিকানা ব্যয় শুধু এর ক্রয়মূল্য দিয়ে হিসাব করলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যায় না।
বাংলাদেশে ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার আমদানি ও পরিচালনার ক্ষেত্রে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (ক্যাব) নির্দিষ্ট বিধিমালা ও অনুমোদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশ থেকে কিনে আনার পর নিবন্ধন, উড্ডয়ন অনুমোদন ও নিরাপত্তার সব নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলতে হয়। সাধারণ উড়োজাহাজের মতো রানওয়ের ওপর নির্ভরতা না থাকায় জরুরি চিকিৎসাসেবা, দুর্গম এলাকায় যাতায়াত, উদ্ধারকাজ বা শিল্পকারখানা পরিদর্শনের মতো বিশেষায়িত কাজে হেলিকপ্টারের জুড়ি নেই। তাই ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার কেনার আগে এটি কী কাজে ব্যবহার করা হবে এবং বছরে কত ঘণ্টা উড্ডয়ন করা হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা জরুরি। সব মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মূল প্রশ্নটি শুধু ‘কত টাকায় কিনব’ হওয়া উচিত নয়, বরং ‘কত টাকা খরচ করে এটি নিয়মিত পরিচালনা করতে পারব’, সেটাই সবচেয়ে বেশি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।










