ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৭ মাত্রার এক প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পের ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেই জন্ম নিয়েছে এক নবজাতক। চারদিকে যখন মৃত্যু ও আর্তনাদ, ঠিক তখনই এক চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে ৩৯ বছর বয়সী মারিয়া ফ্লোরিডা নোগো কেলেন জন্ম দিয়েছেন এক কন্যাসন্তানের। মুহুর্মুহু আফটারশক এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে হাসপাতালের চিকিৎসকদের বাধ্য হয়ে টর্চলাইটের আলোতেই মারিয়ার এই ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করতে হয়।
জানা গেছে, মারিয়া নাগেওকো অঞ্চলে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের ঠিক কাছাকাছি এলাকায় বসবাস করেন। গর্ভাবস্থায় মারাত্মক জটিলতা দেখা দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই মাস আগেই তার অস্ত্রোপচারের জরুরি সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকেরা, অন্যথায় তার প্রাণঘাতী খিঁচুনি হওয়ার চরম ঝুঁকি ছিল। অপারেশন থিয়েটারে যখন তার অস্ত্রোপচার চলছিল, তখনো হাসপাতাল ভবনটি প্রচণ্ডভাবে কাঁপছিল। বিদ্যুৎহীন সেই চরম মুহূর্তে চিকিৎসকদের কাছে নবজাতকের জন্য কোনো ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থাও ছিল না। তারপরও প্রবল সাহস বুকে ধারণ করে চিকিৎসকদের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখেছিলেন এই মা। সন্তান জন্মদানের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ভুগলেও, নিজের সন্তানদের জন্য সুস্থ হয়ে ওঠার অদম্য ইচ্ছাশক্তি তাকে লড়াই করার সাহস জুগিয়েছে।
শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত সুস্থভাবেই পৃথিবীর আলো দেখেছে মাত্র ১ দশমিক ৩ কেজি ওজনের এই কন্যাশিশু। ভূমিকম্পের ইন্দোনেশীয় প্রতিশব্দ ‘গেম্পা’র সঙ্গে মিল রেখে সদ্যোজাত এই শিশুর নাম রাখা হয়েছে ‘গেম্পিতা সোলি ওয়োনা’। আফটারশকের তীব্র আতঙ্কে বর্তমানে শিশুটিকে হাসপাতালের বাইরে খোলা মাঠে একটি তাঁবুর নিচে ইনকিউবেটরে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন, বর্তমানে মা ও শিশু দুজনের অবস্থাই স্থিতিশীল রয়েছে।
আরও
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার (১৫ আগস্ট) পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশে আঘাত হানা এই শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বহু বাড়িঘর ও হাসপাতাল ধসে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একের পর এক আফটারশকের ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে অস্থায়ী তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছেন হাজারো মানুষ। উপদ্রুত এলাকাগুলোতে দেখা দিয়েছে চরম খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। আর এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মাঝেই ছোট্ট গেম্পিতার জন্ম যেন এক নতুন জীবনের বার্তা নিয়ে এসেছে।










