ভারতের উত্তরাখণ্ডে টানা ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক হড়কা বানের কারণে চামোলি জেলার নীতি উপত্যকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বেইলি সেতু প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে। মালারি-নীতি জাতীয় মহাসড়কে তনক নালার ওপর নির্মিত এই ধাতব সেতুটি উপড়ে যাওয়ার ফলে সীমান্ত লাগোয়া অন্তত ১২টি গ্রামের সঙ্গে জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিপুল পরিমাণ কাদা মেশানো পাহাড়ি ঢল প্রবল বেগে ধেয়ে এসে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেতুটিকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
হঠাৎ আসা এই বন্যায় কেবল সেতুই নয়, বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশনের (বিআরও) পঙ্কজ নামের এক গাড়িচালক এবং একটি যানবাহনও তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে। নিখোঁজ ওই চালকের সন্ধানে এবং দুর্যোগকবলিত এলাকায় উদ্ধারকাজ চালাতে ইতিমধ্যে রাজ্য ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এসডিআরএফ ও এনডিআরএফ) একাধিক দল ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে। যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া গ্রামগুলোতে যাতে খাবার, ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের কোনো সংকট তৈরি না হয়, সে বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি।
On Camera, Uttarakhand Bridge Swept Away In Seconds Due To Strong Currentshttps://t.co/jlUXb3uI1C pic.twitter.com/OPeqOH98aH
আরও
— NDTV (@ndtv) August 10, 2026
রাজ্যজুড়ে টানা বর্ষণের কারণে অলকানন্দা নদীসহ অন্যান্য জলাধারের পানি বিপজ্জনকভাবে বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কতা অনুযায়ী, উত্তরাখণ্ডের বিভিন্ন জেলায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও হড়কা বান ও ভারী বৃষ্টির ঝুঁকি রয়েছে। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের ঝুঁকিপূর্ণ পথগুলো এড়িয়ে চলার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প যাতায়াতব্যবস্থা চালুর কাজ শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা, যা আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে শেষ হতে পারে বলে আশা করছে স্থানীয় প্রশাসন।










