আগামী চার বছরের মধ্যেই ইউরোপে স্বল্প দূরত্বের কিছু রুটে বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে। নতুন প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির ফলেই এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ইউরোনিউজ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাটারিচালিত ও হাইব্রিড উড়োজাহাজ স্বল্প দূরত্বের ভ্রমণকে আরও বেশি পরিবেশবান্ধব করে তুলবে। এতে আমদানি করা জেট জ্বালানির ওপর নির্ভরতা যেমন কমবে, তেমনি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় জ্বালানির দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই প্রযুক্তির গুরুত্ব এখন বহুগুণ বেড়ে গেছে।
ইউরোপের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে সক্ষম এমন বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে ইউরোপের প্রায় ২৫ শতাংশ স্বল্প দূরত্বের আকাশপথে এ ধরনের বিমান চালানো সম্ভব হতে পারে। সম্ভাব্য রুটগুলোর মধ্যে লন্ডন-ডাবলিন, এথেন্স-সান্টোরিনি, বার্সেলোনা-ইবিজা, নিস-কর্সিকা এবং রোম-সার্ডিনিয়ার মতো গন্তব্যগুলো রয়েছে। এসব রুটের অনেকগুলোই দ্বীপ এলাকায় হওয়ায় সেখানে ট্রেনের তেমন কোনো বিকল্প নেই। ফলে সেসব অঞ্চলে বৈদ্যুতিক বিমান যোগাযোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর একটি মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।

আরও
কবে নাগাদ এসব উড়োজাহাজ বাণিজ্যিক কার্যক্রমে আসবে, তা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের পরিকল্পনা সাজিয়েছে। জার্মানির স্টার্টআপ ভ্যারিডিয়ন ৯ আসনের একটি বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ তৈরি করছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে যাত্রী পরিবহনের অনুমোদন পাবে বলে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের এলিসিয়ান এয়ারক্রাফট ৯০ আসনের একটি বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ তৈরি করছে, যা এক হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে সক্ষম হবে। এটি ২০৩৫ সালের মধ্যে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া ফ্রান্সের অরা অ্যারো ১৯ আসনের একটি হাইব্রিড উড়োজাহাজ তৈরি করছে, যার অনুমোদন ২০২৯ সালের শেষ দিকে পাওয়ার আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
পরিবেশগত দিক বিবেচনাতেও বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ বেশ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এগুলো চলার সময় কোনো কার্বন নিঃসরণ করে না এবং শব্দ ও বায়ুদূষণও উল্লেখযোগ্য হারে কমায়। তবে বিশেষজ্ঞরা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, এগুলো চার্জ দিতে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ যদি নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসে, কেবল তখনই এর পরিবেশগত সুবিধা সর্বোচ্চ হবে। তাঁদের মতে, ভবিষ্যতে কম দূরত্বের আকাশপথে বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তবে এর পাশাপাশি রেল যোগাযোগের উন্নয়ন এবং অপ্রয়োজনীয় বিমান ভ্রমণ কমানোর ওপরও জোর দেওয়া প্রয়োজন।










