১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট মানব ইতিহাসের প্রথম ও ভয়াবহতম পারমাণবিক হামলার সাক্ষী হয়েছিল জাপানের ঐতিহাসিক শহর হিরোশিমা। আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সেই ভয়াল ও ট্র্যাজিক হিরোশিমা দিবসের ৮১তম বার্ষিকী। যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শোক এবং পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত এক বিশ্ব গড়ার জোরালো আহ্বানের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করেছে জাপান।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একেবারে শেষ পর্যায়ে ১৯৪৫ সালের এই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অতি গোপনীয় ‘ম্যানহাটন প্রকল্প’-এর অধীনে তৈরি পারমাণবিক বোমাটি হিরোশিমার ওপর ফেলা হয়। আমেরিকান ‘বি-২৯’ বোমারু বিমান ‘এনোলা গে’ থেকে ফেলা এই বোমার সাংকেতিক নাম ছিল ‘লিটল বয়’। এই একক বোমার আঘাতে তাৎক্ষণিকভাবে এবং পরবর্তী কয়েক মাসে আনুমানিক ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ প্রাণ হারান, যাঁদের প্রায় সবাই ছিলেন নিরীহ বেসামরিক নাগরিক।
ভয়াবহ সেই বিস্ফোরণ ও এর পরবর্তী ধ্বংসযজ্ঞে মুহূর্তের মধ্যেই হিরোশিমা শহরের তৎকালীন মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৯ শতাংশ চিরতরে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়তা ও তীব্র দাবানলে আক্ষরিক অর্থেই এক মৃত্যুপুরী ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় গোটা শহর। হিরোশিমায় এই নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর ঠিক তিন দিন পর, ৯ আগস্ট জাপানের আরেক শহর নাগাসাকিতে প্লুটোনিয়ামভিত্তিক দ্বিতীয় পারমাণবিক বোমা ‘ফ্যাট ম্যান’ নিক্ষেপ করে যুক্তরাষ্ট্র।
আরও
দিবসটি উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও হিরোশিমার পিস মেমোরিয়াল পার্কে এক বিশেষ স্মৃতি তর্পণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেই ধ্বংসযজ্ঞে নিহতদের স্মরণ করার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশ্বনেতা ও শান্তিকামী মানুষেরা পৃথিবী থেকে পারমাণবিক অস্ত্রের সম্পূর্ণ বিলোপ এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদাত্ত আহ্বান জানান।










