হিজবুল্লাহকে সুরক্ষার পাশাপাশি লেবাননের অখণ্ডতা বজায় রাখাকে তেহরানের প্রধান কৌশলগত দায়িত্ব বলে ঘোষণা করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত সমাপ্তির যেকোনো সমঝোতার জন্য লেবাননের ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসন সম্পূর্ণ ও শর্তহীনভাবে বন্ধ করাকে মূল পূর্বশর্ত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন তিনি। রোববার (২৬ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এই অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এক্সে দেওয়া বার্তায় মোজতবা খামেনি স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘জিহাদ ও প্রতিরোধ ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই’। লেবাননের ওপর ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসন পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত থামানোর কোনো সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় হিজবুল্লাহর ধৈর্য ও অসীম ত্যাগের প্রশংসা করে সংগঠনটিকে বিশ্বজুড়ে চলমান প্রতিরোধ সংগ্রামের অগ্রভাগের এক অবিচল শক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেন এই শীর্ষ নেতা। পাশাপাশি লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের আপসহীন জনগণের ধৈর্য, হিজবুল্লাহর সাবেক প্রধান সাইয়েদ হাসান নাসরুল্লাহ এবং এই লড়াইয়ে নিহত অন্য সব কমান্ডারের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি। একটি সাধারণ সংগঠন থেকে হিজবুল্লাহ যেভাবে পুরো মুসলিম বিশ্বের গর্বে পরিণত হয়েছে, সেই রূপান্তরেরও বিশেষ প্রশংসা করেন খামেনি।
এদিকে উদ্ভূত এই আঞ্চলিক সংকটের মধ্যেই লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাঁদের মধ্যকার এই প্রথম বৈঠকে লেবানন ভূখণ্ড থেকে সমস্ত ইসরায়েলি সৈন্য প্রত্যাহার, ইরান সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অস্ত্রসংবরণ, লেবাননের সেনাবাহিনীকে মার্কিন সামরিক সহায়তা প্রদান এবং দেশটির পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে আমেরিকার বিনিয়োগসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।









