ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এবার মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশ কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনে পাল্টা হামলা চালিয়েছে তেহরান। শুক্রবার (১৭ জুলাই) ভোরে দেশগুলোর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে আকস্মিক এই হামলা চালানো হয়। বিমান ও ড্রোন হামলার পরপরই ওই দেশগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার ভোরে কাতারের রাজধানী দোহার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপরই সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়ে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করে কর্তৃপক্ষ। তবে পরে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে সশস্ত্র বাহিনী। কাতার নিউজ এজেন্সির (কিউএনএ) বরাতে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ভয়ের কিছু নেই।
অন্যদিকে, কুয়েতের আকাশসীমায় শুক্রবার ভোর থেকে ৩২টি ‘শত্রু ড্রোন’ শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করে এসব ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কর্নেল সৌদ আবদুলআজিজ আল-আতওয়ান জানান, ড্রোনগুলো প্রতিহত করার সময় সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ কয়েকটি আবাসিক এলাকায় ছিটকে পড়ে। এতে কিছু বাড়িঘর ও স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের এই হামলায় কুয়েতের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যদিও এর বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আরও
ইরানের এই পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু থেকে বাদ যায়নি বাহরাইনও। হামলার পরপরই দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জরুরি বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজিয়ে জনগণকে শান্ত থাকার এবং দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেয়। ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, বাহরাইনের সাখির বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ও গোয়েন্দা নজরদারি বিমান লক্ষ্য করেই মূলত এই হামলা চালিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী।








