হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা ও জলপথটি উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে নিজেদের একক কর্তৃত্বের কথা আবারও স্পষ্ট করেছে ইরান। দেশটির একটি বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ সম্পর্কিত যেকোনো সিদ্ধান্ত একচেটিয়াভাবে কেবল ইরান এবং ওমানই গ্রহণ করবে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে ইরানের আলোচক দল ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে মতবিরোধের যে খবর ছড়িয়েছে, তা-ও সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে সূত্রটি।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সমর্থিত বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এবং প্রেস টিভির খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিটি মূলত ইরান ও ওমানের অভ্যন্তরীণ এবং আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে অবস্থিত। তাই এই জলপথ পরিচালনার যেকোনো নিয়ম বা ব্যবস্থা শুধুমাত্র এই দুটি উপকূলীয় রাষ্ট্র দ্বারাই নির্ধারিত হবে। জলপথটি পুনরায় চালুর বিষয়ে চলমান আলোচনায় কাতারের অংশগ্রহণ নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর একটি প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় সূত্রটি জানায়, ইরান ও ওমানের মধ্যকার এই আলোচনায় কাতারের সম্পৃক্ততা নিছকই একজন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে। আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা সহজতর করাই তাদের কাজ; মূল সিদ্ধান্তে প্রভাব খাটানোর কোনো সুযোগ কাতারের নেই।
ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ওমানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা ও রূপরেখা নির্ধারণের মূল দায়িত্ব ইরানের ওপরই ন্যস্ত। সূত্রটি আরও দাবি করে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে উল্লেখ রয়েছে যে, কেবল ইরানের নির্ধারিত ব্যবস্থার আওতাতেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। ফলে নিজেদের কাঠামোর বাইরে কোনো নতুন নৌপথ বা বিকল্প ব্যবস্থা তেহরান কোনোভাবেই মেনে নেবে না এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা থেকে সরে আসার কোনো ইচ্ছাও তাদের নেই।










