Long Popup (2)
সর্বশেষ

আজ রাত থেকেই যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা ইরানের

WarProbashircityWebPopupUpdate

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অভাবনীয় সমঝোতা চুক্তির মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। এই চুক্তির আওতায় আজ সোমবার রাত থেকেই সব ফ্রন্টে চলমান যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে তেহরানের ওপর আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের কড়া নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার প্রক্রিয়াও শুরু হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি ও ওই অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

আজ সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি এই সমঝোতার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, চুক্তি অনুযায়ী লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় চলমান সব ধরনের সামরিক কর্মকাণ্ডের অবসান ঘটবে। চুক্তির প্রতিটি শর্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনো পক্ষ শর্ত ভঙ্গ করলে তেহরান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না। ভারতে অবস্থিত ইরানের কূটনৈতিক মিশনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য শেয়ার করে যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

প্রাথমিক এই সমঝোতার পর একটি চূড়ান্ত ও টেকসই শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরান নতুন করে আলোচনায় বসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ইরানি কর্মকর্তারা। এই দুই মাস সময়ের মধ্যে ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারসহ অন্যান্য অমীমাংসিত ইস্যু নিয়ে বিশদ আলোচনা চলবে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দুই দেশের মধ্যে এই যুগান্তকারী সমঝোতা সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তা পুরোপুরি উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সমঝোতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বস্তি ফেরালেও মিত্র দেশ ইসরায়েলে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, বর্তমান চুক্তির কাঠামোতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তেহরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর (অ্যাক্সিস অব রেসিস্ট্যান্স) লাগাম টানার বিষয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের দীর্ঘদিনের মূল লক্ষ্যগুলো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। তারপরও বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই চুক্তি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে লোহিত সাগর থেকে শুরু করে লেবানন ও ওমান উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার এক নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুনProbashircityWebPopupUpdate