যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ, বিশেষ করে ইরাক ও ইরান ঘিরে অতীতের মার্কিন নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন, ইরাক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ একটি চরম ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ ছিল এবং মার্কিন সেনাদের সেখানে যাওয়া কোনোভাবেই উচিত হয়নি। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
ফক্স নিউজের ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র বোকামির পরিচয় দিয়েছে এবং সেখানে পরিস্থিতি বেশ খারাপ ছিল। একই সঙ্গে তিনি ইরানের প্রসঙ্গ টেনে দাবি করেন, নয় মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র যদি বি-টু (B-2) বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা না চালাত, তবে এত দিনে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হয়ে যেত। তাঁর মতে, এমনটা ঘটলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারত এবং ইসরায়েলের অস্তিত্বই হয়তো হুমকির মুখে পড়ত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র সচেতনভাবেই ইরানের সামরিক বাহিনীকে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রক্ষা করেছে। এর কারণ হিসেবে ট্রাম্প ব্যাখ্যা করেন, ওয়াশিংটন মনে করে ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী তুলনামূলকভাবে ‘মধ্যপন্থী’। তাই পুরো সামরিক বাহিনীকে সরাসরি পঙ্গু না করে এর ভেতরে থাকা নির্দিষ্ট কিছু কট্টর গোষ্ঠী ও তাদের নেতৃত্বকে সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
আরও
ইচ্ছাকৃতভাবে সামরিক বাহিনীকে ছাড় দেওয়ার এই বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে বিস্ময়কর মনে হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। এর সপক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধে অনেক সময়ই এমন সব মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার ফলে চারপাশের সবকিছু ধ্বংস হয়ে যায়। আর একবার একটি দেশের পুরো ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে তা পুনরায় গড়ে তুলতে অন্তত ৪০ বছর সময় লেগে যায়।










