নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রকে যদি আবারও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়, তবে বাহরাইনকে চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান আইনপ্রণেতা মানুচেহের মোত্তাকি প্রকাশ্যেই এই হুমকি দেন। তাঁর দাবি, এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে বাহরাইনের ওপর এমন ভয়াবহ মাত্রায় হামলা চালানো হবে যে তারা নিজেদের দেশের নামই ভুলে যাবে।
সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মোত্তাকি বাহরাইনের কড়া সমালোচনা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর বাহরাইনের বেশ কিছু পদক্ষেপ এই যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও উসকে দিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে হত্যার পর তেহরানের প্রতি কোনো ধরনের সহানুভূতি না দেখিয়ে উল্টো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের বিরুদ্ধে আনা একটি প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছে বাহরাইন। এই ঘটনা প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে তীব্র ফাটল ধরিয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাহরাইন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইরানের বিরুদ্ধে কাজ করছে বলে অভিযোগ করেন এই ইরানি আইনপ্রণেতা। তিনি উল্লেখ করেন, গত মাসে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) বৈঠকেও ইরানের বিরুদ্ধে একটি বিল পাস করানোর জোর চেষ্টা চালিয়েছিল মানামা। তবে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা এবং মিত্র অন্যান্য দেশের সহায়তায় ইরান শেষ পর্যন্ত সেই বিলটি সফলভাবে আটকে দিতে সক্ষম হয় বলে জানান তিনি।
আরও
কৌশলগত দিক থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান সামরিক অবস্থান বাহরাইনে, যেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর অবস্থিত। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানের ওপর যৌথ হামলা চালিয়েছিল, তখন জবাবে বাহরাইনে ব্যাপক পাল্টা হামলা চালিয়েছিল তেহরান। সে সময় দেশটির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা এমনকি হোটেলেও ড্রোন হামলা চালানোর ঘটনা ঘটে। ইরানের দাবি ছিল, মার্কিন সেনারা সে সময় নিজেদের ঘাঁটি ছেড়ে প্রাণভয়ে ওই সব হোটেলে আশ্রয় নিয়েছিলেন।




![]jh](https://probashtime.net/wp-content/uploads/2026/05/jh.webp)





