লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর ড্রোন হামলায় আরও দুই প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৩ মে) বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। এর আগে গত সোমবারও ওই একই এলাকায় ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি কর্মী প্রাণ হারিয়েছিলেন। ফলে সংঘাতপূর্ণ এই অঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত মোট চারজন প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যুর মর্মান্তিক তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেল।
বাংলাদেশ দূতাবাস ও বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত ১১ মে রাতে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়ে প্রদেশের মাইফাদুন এলাকায় প্রবাসীদের একটি আবাসস্থলে এই ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এই হামলায় প্রাণ হারানো দুই বাংলাদেশি কর্মী হলেন সাতক্ষীরার শ্রী শুভ কুমার দাস এবং নরসিংদীর করিম মিয়া। জীবিকার তাগিদে দেশটিতে পাড়ি জমানো এই দুই প্রবাসী ঘটনার সময় ওই আবাসস্থলেই অবস্থান করছিলেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
হামলার পর বুধবার লেবানিজ আর্মি ও লেবানিজ রেডক্রসের সহায়তায় ওই হামলাস্থলে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখান থেকে একজনের অঙ্গবিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকর্মীরা। পরে রাজিব নামের প্রতিবেশী আরেক প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী উদ্ধারকৃত মরদেহটি শ্রী শুভ কুমার দাসের বলে শনাক্ত করেন। বর্তমানে নিহত শুভর মরদেহটি নাবাতিয়ের নাযদ হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।
আরও
অন্যদিকে, একই হামলায় নিহত অপর বাংলাদেশি কর্মী করিম মিয়ার মরদেহ এখনো ওই ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারে বলে প্রবল ধারণা করা হচ্ছে। তবে ওই এলাকায় চলমান তীব্র নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে লেবানিজ আর্মি ও রেডক্রসের উদ্ধারকর্মীরা তাঁর মরদেহটি এখনো উদ্ধার করতে পারেননি। বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ধ্বংসস্তূপ থেকে করিম মিয়ার মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের সার্বক্ষণিক ও নিবিড় যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।










