ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে লিবিয়ার উপকূলে প্রাণ হারিয়েছেন ১৭ জন অভিবাসীপ্রত্যাশী। গত কয়েক দিনে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির পশ্চিমে অবস্থিত জুয়ারা উপকূল থেকে তাঁদের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় চিকিৎসকদের একটি দল নিশ্চিত করেছে, উদ্ধারকৃত নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন।
লিবিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ইমার্জেন্সি মেডিসিন অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টার এই হৃদয়বিদারক তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানায়, ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১১৭ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত জুয়ারা উপকূলীয় অঞ্চল থেকে এই মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকারী সংস্থাটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মরদেহগুলো সাদা প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে অ্যাম্বুলেন্সে তুলছেন।
উদ্ধার হওয়া ১৭ জনের মধ্যে ১৪ জনের মরদেহ ইতিমধ্যে যথাযথ ধর্মীয় ও আইনি প্রক্রিয়ায় দাফন করা হয়েছে। এর মধ্যে শনাক্ত হওয়া ওই বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ ত্রিপোলিতে অবস্থানরত তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এখনো দুটি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিহতদের সঠিক পরিচয় এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে লিবিয়ার স্থানীয় কর্মকর্তারা বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় নৌকাডুবি কিংবা সাহারা মরুভূমি পার হওয়ার সময় তীব্র পানিশূন্যতা ও খাদ্যসংকটে অভিবাসীদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে থাকতে পারে।
আরও
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে ন্যাটো সমর্থিত বিদ্রোহের মাধ্যমে তৎকালীন শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকেই লিবিয়া ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে মানব পাচারের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যুদ্ধ, দারিদ্র্য এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা থেকে বাঁচতে এশিয়া ও আফ্রিকার হাজার হাজার মানুষ উন্নত জীবনের আশায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর এই ভয়ংকর পথ বেছে নেন।










