সর্বশেষ

যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে পাকিস্তানের বার্তা

Untitled 1Probashir city Popup 19 03

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সরাসরি বৈঠক কোনো চূড়ান্ত চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। দীর্ঘ ৪৭ বছর পর এই দুই বৈরী দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক এই আলোচনার পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সমঝোতা ছাড়াই দেশে ফিরছেন। এমন পরিস্থিতিতে চলমান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে উভয় পক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান। আজ রোববার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার এক বিবৃতিতে বলেছেন, উভয় পক্ষের জন্যই নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা এবং যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে দেশ দুটি টেকসই শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এগোবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এটি শুধু ওই অঞ্চলের জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। ভবিষ্যতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপের পরিবেশ তৈরি করতে পাকিস্তান তার মধ্যস্থতার ভূমিকা অব্যাহত রাখবে বলেও জানান ইসহাক দার। একই সঙ্গে পাকিস্তানের এই উদ্যোগকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য তিনি উভয় পক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, ইসলামাবাদে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট জানিয়েছেন যে ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে কথা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। এই ব্যর্থতার জন্য তিনি ইরানকে দায়ী করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের অগ্রহণযোগ্য সীমারেখা বা ‘রেড লাইন’ স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছিল, কিন্তু ইরান সেই শর্ত মেনে নেয়নি। ভ্যান্স বলেন, চুক্তি না হওয়াটা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্যই বেশি খারাপ খবর। তবে আলোচনার আয়োজক হিসেবে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের অসাধারণ আতিথেয়তার প্রশংসা করেন এবং জানান, চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারার পেছনে পাকিস্তানের কোনো দায় বা ঘাটতি নেই।

মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও ইরান যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে দুই দেশের প্রতিনিধিরা লেবানন সংকট ও ইরানের জব্দ করা অর্থ ছাড়ের মতো বেশ কিছু জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। কোনো চূড়ান্ত চুক্তি না হলেও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে সংকট সমাধানের পথে একটি অভাবনীয় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, এটি সামরিক সংঘাত এড়িয়ে কূটনীতির মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ইঙ্গিত।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Probashir city Popup 19 03
Probashir city Squre Popup 19 03