সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও লেবাননে ইসরায়েলের বর্বরোচিত বিমান হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধানের পর এবার ইসরায়েলি এই আগ্রাসনের কড়া নিন্দা জানিয়েছে সিরিয়া ও ওমান। গতকাল বুধবার সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন, আন্তর্জাতিক মানবিক কানুন ও জাতিসংঘ সনদের চরম লঙ্ঘন। অবিলম্বে এই হামলা বন্ধ করে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা সরকার। লেবাননকে ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ দেশ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সিরিয়া জানিয়েছে, এই গভীর সংকটে তারা লেবাননের জনগণের পাশে রয়েছে।
অন্যদিকে ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলি এই হামলাকে সরাসরি ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। ওমান জানিয়েছে, বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ইসরায়েলকে এসব কর্মকাণ্ডের জন্য পুরোপুরি দায়ী করে জবাবদিহির আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
এর আগে লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসলীলার তীব্র নিন্দা জানান জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক। লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দিয়ে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এমন রক্তপাত সত্যিই অবিশ্বাস্য। এটি বর্তমান ভঙ্গুর শান্তি প্রক্রিয়ার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি জরুরি। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী যেকোনো পরিস্থিতিতে বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামো রক্ষা করা যে বাধ্যতামূলক, সে কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। পাশাপাশি লেবাননের জনাকীর্ণ এলাকাগুলোতে এমন ভয়াবহ প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি (আইসিআরসি)।
আরও
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়, যা উভয় পক্ষই নিশ্চিত করেছে। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধবিরতি মেনে নিলেও ইসরায়েল তা মানতে নারাজ। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর স্পষ্ট জানিয়েছে, ইরানে মার্কিন হামলা বাতিলের সিদ্ধান্তকে তারা সমর্থন করলেও লেবাননের ক্ষেত্রে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে না। যার ফলশ্রুতিতে গতকাল বুধবার রাজধানী বৈরুতসহ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর দাবি, মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে তারা লেবাননজুড়ে প্রায় ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ২৫৪ জন নিহত এবং এক হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই প্রাণহানির ঘটনাকে ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধাপরাধ’ বলে মন্তব্য করেছেন লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার।

![]oiug](https://probashtime.net/wp-content/uploads/2026/04/oiug.webp)








![]](https://probashtime.net/wp-content/uploads/2026/04/unnamed-file-1.webp)
