যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া চরম সময়সীমা বা আলটিমেটাম যত ঘনিয়ে আসছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তত বাড়ছে। এর মধ্যেই ইরানের বিভিন্ন সেতু ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। এমনকি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপেও ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। যুদ্ধের এই তীব্রতা প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ‘পারমাণবিক বোমা’ হামলার প্রসঙ্গ।
ইরানে সত্যিই পারমাণবিক বোমা হামলা চালানো হবে কি না, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে জোর জল্পনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে সম্প্রতি দাবি করা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারেন। বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন বলেও ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়। তবে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউস এই দাবি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে।
হোয়াইট হাউস স্পষ্ট জানিয়েছে, ইরানে পারমাণবিক হামলার কোনো সম্ভাবনাই নেই। সামরিক অভিযান নিয়ে জেডি ভ্যান্সের বক্তব্যে এমন কোনো ইঙ্গিত ছিল না। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে কমলা হ্যারিসের অনুসারীদের উদ্দেশে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হোয়াইট হাউস বলেছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট যা বলেছেন, তাতে আক্ষরিক অর্থেই পারমাণবিক হামলার বিন্দুমাত্র আভাস নেই। জেডি ভ্যান্স মূলত বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেওয়া কঠোর সময়সীমা কার্যকর করতে মার্কিন বাহিনীর হাতে এমন কিছু অস্ত্র রয়েছে, যা ব্যবহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।
আরও
এদিকে ইরানকে পুনরায় কড়া ভাষায় হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য তাঁর দেওয়া চূড়ান্ত সময়সীমা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। আজ রাতেই একটি আস্ত সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনোই আগের অবস্থায় ফেরানো সম্ভব হবে না। ট্রাম্পের এমন ভয়াবহ হুমকির পরপরই অবশ্য মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরানের সঙ্গে এখনো আলোচনা ও দরকষাকষি চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।










