ইতালির উপকূলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী একটি নৌকাডুবির ঘটনায় বাংলাদেশিসহ অন্তত ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। সাগর থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও এই মর্মান্তিক ঘটনায় এখনও অন্তত ৭০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, গত রোববার একটি ছোট নৌকা থেকে এই অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মিসরের নাগরিকেরা রয়েছেন। দাতব্য সংস্থা ‘মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যানস অ্যান্ড সি-ওয়াচ’ জানিয়েছে, সাগর থেকে উদ্ধারের পর তাঁদের সবাইকে ইতালির কোস্টগার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে সেখান থেকে তাঁদের ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ লাম্পেদুসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যমতে, নৌকাটি মূলত লিবিয়ার তাজোরা বন্দর থেকে ইতালির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল এবং এতে শতাধিক অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু যাত্রার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বৈরী আবহাওয়া ও সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের কারণে সেটি উল্টে যায়। ইতালির কোস্টগার্ডের মুখপাত্র রবার্তো ডি’অ্যারিগো জানান, লিবিয়া কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে একটি ইতালীয় মালবাহী জাহাজ এবং লাইবেরিয়ার একটি বাণিজ্যিক জাহাজ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। উদ্ধার হওয়া ৩২ জনের সবাই পুরুষ এবং তাঁদের মধ্যে এক কিশোরও রয়েছে।
আরও
উন্নত জীবনের আশায় চরম ঝুঁকি নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে নিয়মিতই এমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, চলতি বছর ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অন্তত ৭২৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন। এর আগে গত সপ্তাহেও লাম্পেদুসা উপকূল থেকে ৮০ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি ডিঙি নৌকা থেকে ১৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছিল ইতালির কোস্টগার্ড।










