ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরিচালনার কৌশল এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে রিয়াদ ও ওয়াশিংটনের সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে নিয়ে ট্রাম্পের একটি অবমাননাকর মন্তব্যে চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন সৌদি নেতারা। আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে হোয়াইট হাউসের প্রতি সৌদি আরবের এই গভীর হতাশা ও অসন্তোষের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
পর্যবেক্ষক সংস্থা চ্যাথাম হাউসের ফেলো এবং সৌদিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ নিল কুইলিয়াম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানান, মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে সৌদি আরব চরমভাবে হতাশ। গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে রিয়াদ বিপুল অর্থ ও শ্রম বিনিয়োগ করলেও ট্রাম্পের বর্তমান আচরণ তাদের নিরাশ করেছে। বিশেষ করে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি, যুদ্ধের ব্যয়ভার আরব দেশগুলোর ওপর চাপানোর প্রস্তাব এবং হরমুজ প্রণালি সুরক্ষার দায়িত্ব কেবল এর সুবিধাভোগী দেশগুলোকেই নিতে হবে বলে ট্রাম্প যে মন্তব্য করেছেন, তা রিয়াদকে আরও বেশি উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ট্রাম্পের এমন একতরফা ও পরিণতি না ভাবা সিদ্ধান্তে ক্রাউন প্রিন্স সালমানের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকার পরও রিয়াদের নীতিনির্ধারকেরা ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক বার্নার্ড হেকেল জানান, শুরুতে সৌদি আরবের ধারণা ছিল—ইসরায়েল যদি ইরানে হামলা চালায় এবং যুক্তরাষ্ট্র তাতে সরাসরি যোগ দেয়, তবে রিয়াদ তুলনামূলক নিরাপদ থাকবে এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে। কিন্তু চলমান যুদ্ধে ইরান যেভাবে নিখুঁত পাল্টা হামলা চালিয়ে নিজেদের সামরিক শক্তির জানান দিচ্ছে, তা সৌদিকে হিসাবের খাতা নতুন করে মেলাতে বাধ্য করেছে। হেকেল মনে করেন, সৌদি আরব এখন চরম কৌশলগত ঝুঁকির মধ্যে অবস্থান করছে। দেশটির বিশাল ভূখণ্ড, সংবেদনশীল জ্বালানি অবকাঠামো এবং পানি শোধনাগারগুলো যদি বড় ধরনের হামলার শিকার হয়, তবে তা রিয়াদের জন্য আক্ষরিক অর্থেই এক অসহনীয় পরিস্থিতি তৈরি করবে।
আরও
ইতোমধ্যে ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতার সুস্পষ্ট প্রমাণ রেখেছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে সৌদি আরবের তেল শোধনাগার, কুয়েত ও বাহরাইনের পানি শোধনাগার এবং কাতারের গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্রে নিখুঁত হামলা চালিয়েছে তেহরান। আরব বিশ্বের এক শীর্ষ কর্মকর্তা ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছেন, গত মাসে ট্রাম্প যখন ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন, তখন আরব নেতারা তড়িঘড়ি করে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে এই সিদ্ধান্ত থেকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। কারণ, এর জেরে ইরান যে বিধ্বংসী পাল্টা হামলা চালাবে, তা সামাল দেওয়ার মতো সক্ষমতা এই অঞ্চলের দেশগুলোর নেই। এর ওপর এই প্রলম্বিত যুদ্ধের পুরো আর্থিক ব্যয় আরব দেশগুলোর কাছ থেকে আদায়ের যে স্পষ্ট ইঙ্গিত হোয়াইট হাউস দিয়েছে, তা রিয়াদসহ মিত্র দেশগুলোর ক্ষোভের আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছে।










