যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। মধ্যস্থতাকারী দুটি দেশের মাধ্যমে তেহরানের কাছে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ওই কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা কমানো বা যুদ্ধবিরতি নিয়ে এই প্রস্তাবে আলোচনার কথা বলা হয়েছিল। তবে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি সেই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা আরও জানান, নিজের প্রথম পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক অধিবেশনে মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘কঠোর প্রতিশোধ’ নেওয়ার বিষয়ে অত্যন্ত অনমনীয় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তবে ওই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা সশরীরে উপস্থিত ছিলেন কি না, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মেজ ছেলে মোজতবা খামেনি সম্প্রতি দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
নতুন সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেওয়ার পর ইরানের প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) তাঁর সব নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করছে। আইআরজিসির পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মোজতবা খামেনির প্রতি ‘আন্তরিক ও আজীবন আনুগত্য’ প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বাহিনীটি জোর দিয়ে বলেছে, তারা নেতার সব আদেশ মেনে চলবে এবং তা বাস্তবায়নে সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। ফলে যুদ্ধবিরতির বিষয়েও তারা মোজতবা খামেনির সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত বলে মেনে নিয়েছে।
আরও
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেছেন, তাঁদের হামলায় ইরানের এই শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে বাসিজ মিলিশিয়া বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিকেও হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল। তবে ইসরায়েলের এসব দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি তেহরান।










