ইরানে চলমান মার্কিন সামরিক হামলা অব্যাহত রাখতে এবার যুক্তরাষ্ট্রকে সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছে পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলো। সংঘাতের শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার জন্য ওয়াশিংটনকে কোনো ধরনের আহ্বান না জানালেও এখন নিজেদের অবস্থান থেকে পুরোপুরি সরে এসেছে তারা। আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) যুক্তরাজ্যের বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
উপসাগরীয় তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরব দেশগুলোর বর্তমান প্রধান চাওয়া হলো, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এমনভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হোক, যেন তারা আর কখনো উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল সরবরাহের মূল পথ এবং এর ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতিগুলোর জন্য হুমকি হয়ে উঠতে না পারে। মূলত নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেই মিত্রদের এমন বার্তা দিচ্ছে তারা।
উপসাগরীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, আরব নেতাদের মধ্যে এখন একটি মনোভাব একেবারেই স্পষ্ট—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যেকোনো মূল্যে ইরানের সামরিক ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে দুর্বল করে দিতে হবে। তাঁদের আশঙ্কা, ইরানের হাতে যদি শক্তিশালী আক্রমণাত্মক অস্ত্র থেকে যায়, তবে ভবিষ্যতে উত্তেজনা বাড়লেই তেহরান এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথকে জিম্মি করে ফেলতে পারে। উল্লেখ্য, শিয়া মুসলিম-অধ্যুষিত ইরান তার মার্কিন মিত্র আরব প্রতিবেশীদের নিয়ে বরাবরই গভীর সন্দেহ পোষণ করে আসছে, বিশেষ করে এসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকায় এই অবিশ্বাস আরও প্রবল।
আরও
এদিকে আরব দেশগুলো যখন ইরানকে সামরিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে, ঠিক তখনই তাদের সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। পশ্চিমা ও আরব দেশগুলোর পাঁচজন কূটনীতিক এবং উপসাগরীয় সূত্রগুলো রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে যে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই যুদ্ধে উপসাগরীয় দেশগুলো যেন সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়, সে জন্য মিত্রদের ওপর এখন ক্রমশ চাপ বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন।











