ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। শনিবার সকালে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বাহিনী ইরানের ওপর একযোগে বিমান হামলা শুরু করেছে বলে জানা গেছে। হামলার পরপরই তেহরানজুড়ে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং খোদ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কার্যালয়ের সামনেও একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তার স্বার্থে খামেনিকে আগেই তেহরান থেকে সরিয়ে একটি গোপন ও নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ইরানে এই অভিযান শুরু করার পরপরই ইসরায়েলজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাদের দেশের আকাশসীমা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সমস্ত বেসামরিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ইসরায়েলের পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কোনো বিমান ওঠানামা করবে না এবং জনসাধারণকে বিমানবন্দরে না আসার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
বিদেশে অবস্থানরত ইসরায়েলি নাগরিকদের জন্য দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। তাদের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে স্থানীয় নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আকাশসীমা পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে ফ্লাইটের নতুন সময়সূচি সম্পর্কে মিডিয়া ও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
আরও
মধ্যপ্রাচ্যের এই হঠাৎ সামরিক সংঘাত বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে খামেনির কার্যালয়ের কাছে বিস্ফোরণ এবং তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার খবরটি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে যাতায়াতকারী আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোও ব্যাপক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে, যার প্রভাব সরাসরি বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।












