পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে ফিলিস্তিনের অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদের ইমাম শায়খ মোহাম্মদ আল-আব্বাসিকে আটক করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যায় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে তাকে আটক করা হয়। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইমামকে আটকের ঘটনায় পুরনো জেরুজালেম এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
আটকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই শায়খ আল-আব্বাসিকে এক সপ্তাহের জন্য আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজনে এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়। এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে দীর্ঘ এক বছর চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে তিনি দায়িত্ব পালনে ফিরেছিলেন। আটকের আগে তিনি জানিয়েছিলেন, তাকে নিষেধাজ্ঞার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ দর্শানো হয়নি, যা তাকে মানসিকভাবে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।
সম্প্রতি আল-আকসা মসজিদকে ঘিরে ইসরায়েলি বাহিনীর তৎপরতা ও বিধিনিষেধ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। মসজিদের ইমাম, খতিব ও সাধারণ মুসল্লিদের ওপর কড়াকড়ি আরোপ এবং ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের দৌরাত্ম্যের মধ্যেই এবার ইমামকে আটকের ঘটনা ঘটল। এর আগে জেরুজালেমের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি শেখ একরিমা সাবরি আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রশাসন আসন্ন রমজানে মুসলিমদের আল-আকসায় প্রবেশ সীমিত করার পরিকল্পনা করছে।
আরও
ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস এক বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলছে, ইমামকে নিষিদ্ধ ও আটক করা আল-আকসার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর বড় আঘাত। সংগঠনটির অভিযোগ, রমজান মাসকে সামনে রেখে মসজিদের লজিস্টিক বা আনুষঙ্গিক প্রস্তুতিতেও ইসরায়েলি বাহিনী নানাভাবে বাধা সৃষ্টি করছে।












