ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে এক ইসরায়েলি নারীসহ দুই নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং এক পুরুষ পর্যটককে নির্মমভাবে হত্যার দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে স্থানীয় একটি আদালত। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) কোপ্পাল জেলার গঙ্গাবতীতে অবস্থিত প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মল্লেশ, সাই ও শরণাপ্পা। আদালত তাঁর রায়ে উল্লেখ করেছেন, হত্যার অপরাধে তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে, তবে তা কর্ণাটক হাইকোর্টের অনুমোদন সাপেক্ষে।
গত বছর কর্ণাটকের সানাপুর এলাকায় তুঙ্গভদ্রা খালের পাশে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছিল। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী পর্যটকরা রাতের আকাশ দেখার জন্য খালের পাড়ে অবস্থান করছিলেন। সে সময় আসামিরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় ওড়িশার এক পুরুষ পর্যটক ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং দুই নারী পর্যটক গণধর্ষণের শিকার হন, যাদের মধ্যে একজন ছিলেন ইসরায়েলি নাগরিক। এই ঘটনাটি তখন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মণ্ডলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল।
আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় কঠোর শাস্তির আদেশ দেওয়া হয়েছে। গণধর্ষণের অপরাধে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং হত্যাচেষ্টার মামলায় প্রত্যেককে আরও একটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ৩০ হাজার রুপি করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া, ধর্ষণের সময় গুরুতর আঘাত করার অপরাধে তাদের স্বাভাবিক জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কারাদণ্ড ভোগের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আসামিদের সব দণ্ড একসঙ্গে কার্যকর হবে।
আরও
নিরাপত্তা ও পর্যটনের জন্য পরিচিত কর্ণাটকে বিদেশি পর্যটকদের ওপর এমন হামলার ঘটনায় বিচারব্যবস্থার এই কঠোর অবস্থানকে দৃষ্টান্তমূলক হিসেবে দেখছেন আইনজ্ঞরা। এই রায় পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার এবং অপরাধীদের দমনে একটি শক্তিশালী বার্তা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। রায় ঘোষণার পর স্থানীয় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং দ্রুততম সময়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষে দণ্ড কার্যকরের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার ও সাধারণ মানুষ।











