মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজ পৌঁছে ইরানের নিকটবর্তী এলাকায় মোতায়েন হওয়ার খবরে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের একটি অংশ আশঙ্কা করছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের কয়েকজন কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে।
খবরে বলা হয়, ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও ভাবাদর্শী হাসান রহিমপুর আজগাদি মন্তব্য করেছেন—তেহরানের উচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে “আটক” করার মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করা। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে তিনি এ ধরনের বক্তব্য দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মন্তব্যটি ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
এদিকে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালায়ি-নিক যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের সম্ভাব্য আক্রমণ নিয়ে সতর্ক করে বলেছেন, কোনো আগ্রাসন হলে তার জবাব আগের চেয়েও কঠোর হবে। তিনি ইরানের সামরিক প্রস্তুতি আগের তুলনায় বেশি বলেও দাবি করেন এবং বলেন, শত্রুতামূলক পদক্ষেপ নিলে প্রতিপক্ষকে বড় ধরনের ব্যর্থতার মুখে পড়তে হবে।
আরও
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদেশি যুদ্ধজাহাজের আগমন তেহরানের প্রতিরক্ষা অবস্থান বা কূটনৈতিক নীতিতে পরিবর্তন আনবে না। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইরান কখনো যুদ্ধকে স্বাগত জানায়নি—তবে দেশ রক্ষায় সক্ষমতা ও জনগণের সমর্থনের বিষয়ে তাদের অবস্থান দৃঢ়। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তেহরান কূটনীতি ও আলোচনার পথ থেকেও সরে আসেনি।
সার্বিকভাবে, সামরিক মোতায়েন ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে অঞ্চলটির পরিস্থিতি স্পর্শকাতর হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়—তা নির্ভর করবে আগামী দিনগুলোতে কূটনৈতিক তৎপরতা ও মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।












