ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের মাধ্যমে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘটনার পর থেকে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র–এর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকিমূলক বক্তব্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সতর্কতা বেড়েছে। ভেনেজুয়েলার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ ইরান–এর বিরুদ্ধেও সামরিক হামলার ইঙ্গিত দেয়।
এই প্রেক্ষাপটেই মার্কিন মদদপুষ্ট ইসরায়েল ইরান, লেবানন এবং ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য ‘যুগপৎ যুদ্ধের’ জন্য নিজেদের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা আরও তীব্র আকার ধারণ করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েলের এমন প্রস্তুতির প্রতিক্রিয়ায় এবার সরাসরি আগাম হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ইরানের নবগঠিত প্রতিরক্ষা নীতিনির্ধারণী সংস্থা ইরানিয়ান ডিফেন্স কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তার কঠোর ও “দাঁতভাঙা” জবাব দেওয়া হবে।
আরও
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরান কেবল আক্রান্ত হওয়ার পর পাল্টা জবাবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি যেকোনো ‘দৃশ্যমান হুমকির লক্ষণ’ পাওয়া মাত্রই আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত থাকবে। এতে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ভবিষ্যতে সংঘাতের মাত্রা আরও ভয়াবহ হতে পারে।
উল্লেখ্য, এই হুঁশিয়ারির মাত্র দুই দিন আগে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটের সক্ষমতা যাচাই করতে বড় পরিসরে সামরিক মহড়া পরিচালনা করে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।











