তুরস্কের আঙ্কারার আকাশে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় লিবিয়ার সেনাপ্রধান মুহাম্মদ আলী আহমেদ আল-হাদ্দাদ নিহত হয়েছেন। সামরিক সফর শেষে ত্রিপোলিতে ফেরার পথে তার বহনকারী ফ্যালকন–৫০ জেটটি বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা আরও চারজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা এবং তিনজন ক্রু সদস্য প্রাণ হারান।
দুর্ঘটনার পর লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দবেইবা গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, এই বিপর্যয় শুধু সেনাবাহিনীর নয়, পুরো জাতির জন্যই এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি নিহত কর্মকর্তাদের কর্তব্যনিষ্ঠ, শৃঙ্খলাবান ও দেশপ্রেমিক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তাদের অবদানের কথা স্মরণ করেন।

আরও
তুরস্কের প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বিমানটি জরুরি অবতরণের চেষ্টা করছিল। তবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আঙ্কারার হায়মানা জেলায় আছড়ে পড়ে বিমানটি। দুর্ঘটনাস্থল থেকে ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে এবং তুর্কি প্রসিকিউশন অফিস ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে নাশকতার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এই দুর্ঘটনায় নিহত অন্য সামরিক কর্মকর্তারা হলেন স্থলবাহিনীর প্রধান আল-ফিতুরি ঘারিবিল, সামরিক উৎপাদন দপ্তরের প্রধান মাহমুদ আল-কাতাওয়ি, উপদেষ্টা মুহাম্মদ আল-আসাওই এবং সামরিক চিত্রগ্রাহক মুহাম্মদ ওমর মাহজুব। আল-হাদ্দাদ লিবিয়ার গৃহযুদ্ধকালে গাদ্দাফিবিরোধী বিদ্রোহের অন্যতম সামরিক মুখ ছিলেন এবং পশ্চিম লিবিয়ায় তার জনপ্রিয়তা ছিল উল্লেখযোগ্য।
বিশ্লেষকদের মতে, আল-হাদ্দাদের মৃত্যু লিবিয়ার প্রতিরক্ষা কাঠামোয় বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এটি তুরস্ক–লিবিয়া সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের ইতি টানল। বিশেষ করে এমন সময়ে এই দুর্ঘটনা ঘটল, যখন তুর্কি পার্লামেন্ট লিবিয়ায় সেনা অবস্থানের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।










