যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার ধ্বংসস্তূপের মাঝেই ভেসে উঠল জীবনের জয়গান। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে মঙ্গলবার ৫৪ দম্পতি এক গণবিবাহ অনুষ্ঠানে একসূত্রে বাঁধা পড়েছেন। কনেরা পরেছিলেন ঐতিহ্যবাহী সাদা–লাল পোশাক, বরদের পরনে ছিল কালো স্যুট ও টাই; কিন্তু তাদের হাঁটার পথজুড়ে ছিল ভাঙা ভবন, কংক্রিটের স্তূপ আর ধসে পড়া দেয়াল—গত দুই বছরের সংঘাতের ক্ষতচিহ্ন। সেই ধ্বংসাবশেষের মধ্যেই বাজছিল ঢাক–ঢোল আর বেজে উঠছিল উৎসবের সুর।

ধ্বংসস্তূপে বিছানো লাল কার্পেট ধরে নবদম্পতিরা হাঁটছিলেন অস্থায়ী মঞ্চের দিকে। কনেরা হাতে তুলেছিলেন লাল, সাদা ও সবুজ রঙের ফিলিস্তিনি পতাকা এবং ফুলের তোড়া; বররা পাশে ছোট পতাকা হাতে এগিয়েছেন। ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত, নাচ ও উল্লাসে সাজানো এ আয়োজন উপচে পড়া দর্শকের মন জয় করেছে। অনেকেই পাশের ভাঙা ভবনের ওপর উঠে ঝুঁকি নিয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
আরও
নবদম্পতিরা বলছেন, দীর্ঘ যুদ্ধ, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও প্রিয়জন হারানোর বেদনার পরও তাদের জীবনে নতুন সূচনা চাই। বর কারাম মুসায়েদ বলেন, “এমন এক সুখের মুহূর্ত আমাদের প্রয়োজন ছিল। এত কষ্টের পর এই আনন্দ সত্যিই প্রাপ্য।” আরেক বর হিকমত উসামা জানান, “ধ্বংস আর ভয়াবহতার পর আবার আনন্দে ফেরা—এ এক অতুলনীয় অনুভূতি। ইনশাল্ল্লাহ সামনে আরও ভালো দিন আসবে।”


এই গণবিবাহের আয়োজন করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক দাতব্য সংগঠন আল-ফারিস আল-শাহিম ফাউন্ডেশন, যারা বহুদিন ধরে গাজায় ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সংগঠনের গণমাধ্যম কর্মকর্তা শরিফ আল-নাইরাব জানান, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংসস্তূপের মাঝেই অনুষ্ঠানস্থল বেছে নিয়েছেন, যাতে “আনন্দের পোশাক আবার শরীরে উঠবে” এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া যায়। তিনি বলেন, “গাজার মানুষ ধ্বংসাবশেষ থেকে আবার উঠবে, গাজা আবার আনন্দে ভরে উঠবে।”
১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল–হামাস যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গাজায় বহু মানুষ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছে। তবে যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলের হামলায় ইতোমধ্যে অন্তত ৩৬০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এর মধ্যেই এই গণবিবাহ গাজায় আশার আলো জ্বালিয়ে দিয়েছে।











