ইসরায়েল–ফিলিস্তিন সংঘাতের দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার মধ্যে ইসরায়েলি নাগরিকদের মধ্যে দ্বিতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গাজা উপত্যকায় টানা দুই বছরের বেশি সময় ধরে আগ্রাসন চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও যেকোনো সময় তা ভেঙে পড়তে পারে। এই অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশে ইসরায়েলিদের বড় একটি অংশ দেশত্যাগের প্রস্তুতি হিসেবে বিকল্প পাসপোর্টের খোঁজ করছেন।
তেল আবিবে সম্প্রতি এ প্রবণতার স্পষ্ট চিত্র দেখা গেছে। গত শনিবার পর্তুগিজ দূতাবাসের সামনে হাজারো ইসরায়েলিকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদন করতে দেখা যায়। অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্টের দীর্ঘসূত্রতা কাটাতে দূতাবাস বিশেষ উদ্যোগে সামনাসামনি আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থা করে, যার নাম দেওয়া হয় ‘পুরোনো দিনে ফেরা’। দূতাবাসের প্রধান প্রবেশদ্বার থেকে ভূগর্ভস্থ পার্কিং এলাকা পর্যন্ত আবেদনকারীদের ভিড়ে এলাকা জনাকীর্ণ হয়ে ওঠে।
পর্তুগালের ২০১৫ সালের এক বিশেষ আইনে ১৬শ শতকে নিপীড়নের শিকার সেফার্ডিক ইহুদিদের বংশধরদের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এই বিধানের ভিত্তিতেই বহু ইসরায়েলি পর্তুগিজ পাসপোর্টের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে আবেদন বেড়ে যাওয়ায় ২০২৩ সালে লিসবন জানায়, আইনের মূল লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে এবং এখন নাগরিকত্বের শর্ত কঠোর করা হবে।
আরও
ইসরায়েলিদের কাছে পর্তুগিজ নাগরিকত্ব আকর্ষণীয় হওয়ার কারণ—ইউরোপীয় ইউনিয়নে অবাধ যাতায়াত, তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয়, ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়ে সহজ ভর্তির সুযোগ এবং কম টিউশন ফি। এর পাশাপাশি ইউরোপে বসবাসের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা ইসরায়েলিদের আরও বেশি উৎসাহিত করছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে গত এক বছরে কয়েক লাখ ইসরায়েলি দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পর্তুগালের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রতি ইসরায়েলিদের আগ্রহ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।













