যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, দেশটি খুব শিগগিরই ভেনেজুয়েলামুখী মাদক পাচার ঠেকাতে স্থলপথেও সরাসরি অভিযান শুরু করবে। ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যকার টানাপোড়েন যখন তীব্র, এমন সময়ে এ ঘোষণা নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। ভেনেজুয়েলার অভিযোগ—যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরিকল্পনা করছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ, স্টেলথ ফাইটার জেট এবং হাজারো সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক জলসীমায় তথাকথিত মাদক–বাহী নৌযানে মার্কিন বাহিনীর অন্তত ২০টির বেশি হামলায় ৮৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানায় স্থানীয় সরকার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
থ্যাংকসগিভিং উপলক্ষে মার্কিন সেনাদের উদ্দেশে ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলা থেকে সমুদ্রপথে মাদক পাচার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং এখন স্থলপথে অভিযান শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। তবে এসব অভিযানের সঙ্গে জড়িত নৌযানগুলোর মাদক পাচারের প্রমাণ এখনো প্রকাশ করতে পারেনি ওয়াশিংটন।
আরও
লাতিন আমেরিকার আইন বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ, মার্কিন বাহিনীর এসব হামলা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। তাদের মতে, নিহতদের অনেকেই জেলে বা ছোট নৌযানের চালক ছিলেন; মাদক পাচারের সঙ্গে সরাসরি জড়িত এমন প্রমাণ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে তারা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অভিযোগ করেছেন, তার সরকারকে অস্থিতিশীল করতে গত ১৭ সপ্তাহ ধরে বিদেশি শক্তি মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং জনগণ তাদের আভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত। মাদুরোর দাবি, ভেনেজুয়েলা কখনো ভয় দেখিয়ে দমে যাবে না—দেশের ভূমি, সমুদ্র ও আকাশসীমা রক্ষায় জনগণ সর্বদা প্রস্তুত।












