লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি বাহিনী ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে। রবিবার শহরটির দক্ষিণাঞ্চলীয় দাহিয়েহ এলাকায় হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত একটি অ্যাপার্টমেন্টে চালানো এই হামলায় সংগঠনের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার হায়সম আলী তাবাতাবাই নিহত হন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে তাবাতাবাই অন্যতম।
হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে তাবাতাবাইয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও তার সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তাকে সংগঠনের “মহান কমান্ডার” বলে উল্লেখ করা হয়। তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর মতে, তিনি সংগঠনের সশস্ত্র শাখার চিফ অব স্টাফ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীও দাবি করেছে যে, তাদের লক্ষ্যই ছিল তাবাতাবাইকে “নিষ্ক্রিয়” করা। গত বছরের যুদ্ধের পর এটি ছিল তাকে হত্যার তৃতীয় প্রচেষ্টা।
হামলার পর হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ নেতা মাহমুদ ক্বোমাতি বলেন, এই আক্রমণ “রেড লাইন অতিক্রম করেছে” এবং লেবাননের ভেতরে আরও বড় উত্তেজনার পথ খুলে দিয়েছে। তিনি জানান, সংগঠনের নেতৃত্ব প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। হিজবুল্লাহ এখন সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে জটিল অবস্থায় রয়েছে—জবাব দিলে আরও বৃহৎ আকারে ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কা, আর জবাব না দিলে প্রতিরোধ শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
আরও
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় আরও ২৮ জন আহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা এনএএ জানায়, হারেত হ্রেইক এলাকার আল-আরিদ স্ট্রিটে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়, যাতে ভবনের বড় অংশ ধসে পড়ে এবং পার্কিং এলাকা ও আশপাশের স্থাপনাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বৈরুত থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা জেইনা খোদর জানিয়েছেন, এই হামলার পর লেবাননে উত্তেজনা তীব্রভাবে বেড়েছে এবং ইসরায়েলি আগ্রাসন আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহ পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়াতে চাইবে না, কারণ এতে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী হতে পারে এবং লেবাননের জন্য তা হবে আরও বড় ক্ষতির কারণ।











