২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ঘোষিত সামরিক আইনকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ কোরিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী হোয়াং কিয়ো-আন এবং জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনআইএস)-এর সাবেক প্রধান চো তে-ইয়ংকে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা ইয়নহ্যাপ জানিয়েছে, বুধবার (১২ নভেম্বর) হোয়াংকে ‘বিদ্রোহে উসকানি’ ও চো তে-ইয়ংকে ‘গোয়েন্দা আইন লঙ্ঘন এবং দায়িত্বে অবহেলা’র অভিযোগে আটক করা হয়েছে।
২০২৪ সালের সামরিক আইন ঘোষণার পর হোয়াং কিয়ো-আন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাতীয় পরিষদের স্পিকারকে গ্রেপ্তার করার আহ্বান জানান এবং নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তিদের নির্মূলের’ দাবি তোলেন। এই উসকানিমূলক বক্তব্য দেশটিতে তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে।

আরও
অন্যদিকে, সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান চো তে-ইয়ং-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে, তিনি সামরিক আইন ঘোষণার পরিকল্পনার বিষয়ে আগাম অবগত থাকলেও তা জাতীয় পরিষদ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাননি। তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, তার এই নীরবতা অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।
এ ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল বর্তমানে কারাগারে বিচারাধীন রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ আনা হয়েছে যে, তিনি উত্তর কোরিয়ায় গোপনে ড্রোন পাঠিয়ে সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টির মাধ্যমে নিজের সামরিক শাসনকে বৈধতা দিতে চেয়েছিলেন।
ইউন সুক-ইওল ক্ষমতায় থাকাকালীন সেনা মোতায়েন করে জাতীয় সংসদ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্যর্থ হওয়ার পরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়—যা দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে প্রথম কোনো কর্মরত প্রেসিডেন্টের গ্রেপ্তারের ঘটনা। বর্তমানে তাঁর স্ত্রী কিম কিয়ন-হিওও দুর্নীতির মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
সূত্র: আল জাজিরা












